মহানন্দার জলে ভাসল ইংরেজবাজার, মানিকচক বিপর্যস্ত গঙ্গার ভাঙনে
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: টানা বর্ষণে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে মহানন্দা নদী। জলমগ্ন হয়ে পড়ল ইংরেজবাজার পুরসভার ৮, ৯, ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকা। ঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ। একদিকে লকডাউন, অন্যদ
শেষ আপডেট: 23 July 2020 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: টানা বর্ষণে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে মহানন্দা নদী। জলমগ্ন হয়ে পড়ল ইংরেজবাজার পুরসভার ৮, ৯, ১২ এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকা। ঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বহু মানুষ। একদিকে লকডাউন, অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত দুর্ভোগের মুখে এলাকার মানুষ।
ইতিমধ্যে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়া ট্যাঙ্কি এলাকায় বানভাসিদের জন্য তৈরি হয়েছে অস্থায়ী আস্তানা। অন্য এলাকাতেও অস্থায়ী আস্তানা করে বসবাস করছেন শতাধিক মানুষ। বানভাসি বিন্দু মল্লিক জানান, এক মাস ধরে বাড়ছে মহানন্দার জল। মহানন্দা নদীর তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকা প্রথমে নদীর জলে প্লাবিত হয়। ঘরবাড়ি ছেড়ে তাই এখন ১২ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়া ট্যাঙ্কি এলাকায় বসবাস করছেন তাঁরা। আরেক বাসিন্দা নিখিল রাম বলেন, ‘‘কতদিনে ঘরে ফিরতে পারব, কিছুই জানি না। জল কমার কোনও লক্ষণই দেখছি না।’’
ইংরেজ বাজার পুরসভার প্রশাসক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‘মহানন্দা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। কয়েকশো মানুষ এখন ভিটে ছাড়া। তাঁদের থাকার জন্য বিভিন্ন স্কুল খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে বানভাসীদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’’
মালদহের সেচ দফতরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণবকুমার সামন্ত বলেন, ‘‘বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে মহানন্দা নদীর জল। ইংরেজবাজার পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। সেচ দফতরের উদ্যোগে রাতদিন নজর রাখা হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির উপর। বালির বস্তা মজুদ করে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।’’

এদিকে গঙ্গা নদীর ব্যাপক ভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত মানিকচক ব্লকের নন্দীটোলা এলাকা। দিন কয়েক ধরে লাগাতার ভাঙনে আতঙ্কিত নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। কয়েকশো মিটার চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় ঘুম উড়েছে তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর। ভাঙন রোধের কাজ শুরু করেছে সেচ দফতর। যদিও সেই কাজের অংশও নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের আশঙ্কা দ্রুত ভাঙন রোধ করা সম্ভব না হলে নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হবে গোটা ভুতনির চর। তাই ভাঙন রোধে যে কাজ শুরু হয়েছে তা যেন সঠিকভাবে হয় বলে দাবি তুলেছে স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল জানান, জেলা সেচ দফতরের ব্যবস্থাপনায় ভাঙন রোধের কাজ চলছে ভুতনির তেনুটোলায়। নন্দীটোলার অসংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন শুরু হয়েছে। সেখানেও জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।