মরসুম আসতেই ইলিশ ধরতে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেল নামখানা-কাকদ্বীপে, দিঘায় অবশ্য টানাপড়েন
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছর ভরা মরসুমেও মেলেনি ইলিশের দেখা। গোটা বর্ষা ইলিশের জন্য হাহাকার করে কেটেছে বাঙালির। অন্যদিকে রুপোলি ফসল জালে না ওঠায় সংসারে টান পড়েছে মৎস্যজীবীদেরও। ঘুরে আসছে বর্ষাকাল। আবার আশা। এ বার যেন খালি হাতে ফিরতে না হয়।
নিয়
শেষ আপডেট: 8 June 2020 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত বছর ভরা মরসুমেও মেলেনি ইলিশের দেখা। গোটা বর্ষা ইলিশের জন্য হাহাকার করে কেটেছে বাঙালির। অন্যদিকে রুপোলি ফসল জালে না ওঠায় সংসারে টান পড়েছে মৎস্যজীবীদেরও। ঘুরে আসছে বর্ষাকাল। আবার আশা। এ বার যেন খালি হাতে ফিরতে না হয়।
নিয়ম মেনে ১৫ জুন উঠে যাবে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা। সরকারি ছাড়পত্র মিললে এদিনই ইলিশের খোঁজে ট্রলার ভাসাবেন মৎস্যজীবীরা। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে জোর কদমে। একদিকে চলছে ট্রলার রং করার কাজ। অন্যদিকে জালঝাড়ার কাজ। লকডাউনের এতদিন এসব কাজে ব্যাঘাত ঘটে। এবার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার পালা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা- কাকদ্বীপ- পাথরপ্রতিমা- ডায়মন্ডহারবার- কুলতলি- ক্যানিংয়ের মৎস্যজীবীদের এখন দম ফেলবার ফুরসত নেই।
গতবছর ইলিশ না মেলায় দারুণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা অন্যরকম। একদিকে লকডাউনের জেরে গভীর সমুদ্রে কোনও জাহাজ চলেনি অনেকদিন। তাই জলের দূষণ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছে মৎস্যজীবীরা। সেই কারণে পূবালী হাওয়া হলেই গভীর সমুদ্র থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে ধেয়ে আসতে পারে ইলিশের ঝাঁক। এমনটাই মনে করছেন মৎস্যজীবীরা।
মৎস্যজীবী ইউনিয়নের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘‘গতবছর পরের পর দুর্ঘটনায় পড়েছে ট্রলার। বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ইলিশের দেখাও মেলেনি। তাই সবমিলিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে মৎস্যজীবীদের। এ বার লকডাউনের জেরে পরিবেশের উন্নতি হওয়ায় ইলিশের সংকট কাটবে বলেই আমরা আশাবাদী।’’ তাই বর্ষার মুখে নতুন উদ্যমে চলছে মোহনা থেকে ইলিশ আনতে যাওয়ার প্রস্তুতি।
ডায়মন্ডহারবারের মৎস্য আধিকারিক জয়ন্তকুমার উপপ্রধান বলেন, ‘‘ট্রলারে ওঠার আগে অবশ্যই মৎস্যজীবীরদের মাক্স পড়তে হবে। হাতে গ্লাভস পরে, দূরত্ব বজায় রেখে মাছ বিক্রি করতে হবে। এ সমস্ত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’

তবে দিঘায় কিন্তু অন্য ছবি। ১৫ জুন থেকে সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে বাদ সেধেছেন মৎসজীবী ও ট্রলার মালিকদের একাংশ। সোমবার কাঁথি মৎস্য আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁর। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিটি ট্রলারে ৫০ শতাংশ মৎসজীবী নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া সম্ভব নয়। জীবন থাকলে জীবিকা থাকবে। তাই তাঁরা চান মাছ ধরতে যাওয়ার দিন আরও দু-মাস পিছিয়ে দেওয়া হোক। এই নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপড়েন। এই নিয়ে এলাকার বিধায়ক, জেলা সভাধিপতি ও মৎস্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন দিঘা মৎসজীবী সংগঠনের কর্মকর্তারা। ঠিক হয় সরকারের সমস্ত নিয়ম মেনে আগামী ১৫ই জুন থেকেই মৎস্যজীবীরা ট্রলার নিয়ে রওনা দেবেন।
এই বিষয়ে বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বাংলার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মৎস্যজীবী ভাইদের সমুদ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করব।’’ একই কথা বলেন জেলা সভাধিপতি দেবব্রত দাসও।
দিঘা ফিস অ্যান্ড ফিস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি প্রণব কর বলেন, ‘বহু মৎস্যজীবী মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। করোনা রুখতে লকডাউন চলায় মাছ ধরা বন্ধ। এই পরিস্থিতিতেও দাদন ফেরানোর জন্য কিছু কিছু মহাজন চাপ দিচ্ছেন। তাও কিছু মৎস্যজীবী মাছ ধরতে যাওয়া পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা সাংগঠনিকভাবে সবরকম সরকারি নিয়ম মেনেই ১৫ই জুন থেকে সমুদ্রে ট্রলার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রায় চারমাস বন্ধ থাকার পর মাছ ধরা শুরু হলে যেমন মৎস্যজীবীদের আর্থিক সমস্যা মিটবে, তেমনি ইলিশ পমফ্রেটও বাঙালির পাতে উঠবে।’’