নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ইলিশ ভাপা, সরষে ইলিশ, ইলিশ নিয়ে বাঙালির ফ্যান্টাসির শেষ নেই। কিন্তু এ বছর ইলিশ কই? ভরা বর্ষাতেও ইলিশের আক্ষেপ বাঙালির ঘরে ঘরে।
সারি সারি ট্রলার দাঁড়িয়ে আছে নামখানা,পাথরপ্রতিমা,কাকদ্বীপ, ডায়মন্ডহারবার জেটিতে। লকডাউনের জন্য ভরা মরসুমে মার খেয়েছেন মৎসজীবীরা। এখন দোসর বঙ্গোপসাগরে পরপর সৃষ্ট একাধিক গভীর নিম্নচাপ। দুর্যোগের আশঙ্কায় সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের। তাই জেটিতেই নোঙর ফেলেছে হাজার হাজার ট্রলার। ইলিশ ধরার জাল পড়ে রয়েছে ট্রলারে।
সারা বছরের যা কিছু ধারদেনা তা মিটিয়ে পড়ে থাকে যা তা দিয়েই ইলিশের মরসুমে স্বাচ্ছন্দ্য আসে প্রত্যেক মৎস্যজাবার পরিবারে। কিন্তু এ বার কোনও আশাইলিসই পূরণ হয়নি। বরং দেনা বাড়ছে আরও। মৎস্যজীবী সোমনাথ পাত্র, শিবু বেজ, সমীর রায়রা বলেন, ‘‘লকডাউনে অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাও মাছ ধরা শুরু হতে আশা করেছিলাম। হয়তো মোহনায় দেখা মিলবে ইলিশের ঝাঁকের। এতদিনের দারিদ্র্য-কষ্ট সবই শেষ হবে। আবার দিন ঘুরবে। কিন্তু তা আর হল কই। যদি বা লকডাউন উঠল, এমন নিম্নচাপ! সমুদ্রে যাওয়াই বন্ধ হল।’’
প্রত্যেক বছরই ডায়মন্ডহারবার, সুলতানপুর, কাকদ্বীপ, নামখানা, এই মৎস্য বন্দরগুলিতে এই হাজার হাজার ট্রলার ইলিশ নিয়ে আসে। এই সব জেটি থেকে মাছ নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ডায়মন্ডহারবারের নগেন্দ্র বাজার আড়তে। এরপর আয়তন আর ওজন বুঝে কোনওটা তিনশো তো কোনওটা আবার পাঁচশো টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। । কিন্তু এ বছর আরতের যে পাল্লায় শয়ে শয়ে টন ইলিশ ওঠে, তা পড়ে রয়েছে ফাঁকা।
নগেন্দ্রবাজার মৎস্য আড়তের সম্পাদক জগন্নাথ দাস বলেন, ‘‘আড়তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষজন এবং মৎস্যজীবী সহ কয়েক লক্ষ মানুষ সারা বছর এই ইলিশের মরসুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কারণ সারা বছর মাছ ধরলেও মুনাফা ঘরে ঢোকে এই ইলিশের মরসুমেই। ভেবেছিলাম এই বছর ভালো ইলিশ পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অন্য। ফলে একদিকে যেমন মাথায় হাত পড়েছে মৎস্যজীবীদের তেমনই মাথায় হাত আড়তদারদেরও।’’
বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘‘হাতে বাকি আর মাত্র একটা মাস। তার মধ্যে যদি মা গঙ্গা মুখ তুলে চান তবে হয়তো আশা কিছুটা হলেও পূরণ হতে পারে মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে আড়তদারদের। না হলে ধারদেনায় ডুবে থাকা মৎস্যজীবীদের অবস্থা আরও খারাপ হবে।’’
মোহনায় যাওয়া মৎস্যজীবীদের জালে এবার রুপোলি ইলিশ আদৌ ধরা পড়বে কি না তা নিয়ে চিন্তার মেঘ গাঢ় হচ্ছে উপকূলের মৎস্যজীবীদের ঘরে ঘরে।