নকিবউদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এক মাছে ঘুরে গেল ভাগ্যের চাকা। একদিন জাল না ফেললে খাবার জোটে না। এখন সেই পরিবারই ভাবনায় পড়েছেন ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ২০০ টাকা কোথায় কী ভাবে রাখবেন!
মুড়িগঙ্গার ধারে ভাঙাচোরা ঘরে কোনওমতে যাপন। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সামর্থ নেই। বাড়ির কাছেই নদীর খাঁড়িতে জোয়ারে জাল ফেলে রাখেন। ভাঁটার সময় সেই জাল তুলে নেন। তাতে ধরা পড়া মাছ বাজারে বিক্রি করে কোনও মতে খেয়েপড়ে বাঁচেন। একদিন জাল না ফেলা মানেই সে দিনের খাবার নিয়ে চিন্তা। সাগরের চকফুলডুবি গ্রামের পুষ্প কর এভাবেই বেঁচে আছেন এতকাল। এখন দুই ছেলের সংসারেও মাছ ধরেই হাল ধরে রেখেছেন তিনি। ৩৫ ও ৩৮ বছরের দুই ছেলেকে নিয়েই খাঁড়িতে মাছ ধরেন পুষ্পদেবী।
রবিবারও বিকেলে ভাঁটার সময় জাল গোটাতে গেছিলেন তিনি। জাল টানতেই চক্ষু চরকগাছ। জালে উঠেছে পেল্লাই এক ভোলামাছ। হইহই পড়ে যায় গোটা তল্লাটে। সবাই মিলে জাল টেনে পারে তোলেন সেই মাছ। পেল্লাই সেই মাছ দেখতে গোটা গ্রামের মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। দেখা যায় মাছটির ওজন ৫২ কেজি। খবর যায় কাকদ্বীপ বাজারে।
সোমবার ভোর ভোর কাকদ্বীপ বাজার থেকে মাছের আড়তদাররা পৌঁছে যান সাগরের চকফুলডুবিতে। মাছটির দর ওঠে কেজি প্রতি ৬ হাজার ২০০ টাকা। ওই দামেই বিক্রি হয়ে যায় মাছটি। পুষ্পদেবীর হাতে ব্যবসায়ীরা তুলে দেন ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ২০০ টাকা। এখন এই টাকা নিয়েই দিশেহারা এই হতদরিদ্র পরিবার। পুষ্পদেবী বলেন, ‘‘মিন ধরার জন্য জাল পেতেছিলাম। ভাবতেও পারিনি এত বড় মাছ উঠবে। ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন। না হলে কী এমন হয়?’’
স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, হয়তো কোনও জাহাজের ধাক্কায় মাছটি পারের দিকে চলে এসেছিল। না হলে এত বড় সামুদ্রিক মাছ এ ভাবে পারের কাছাকাছি আসতে পারে না। কারণ যাই হোক, এক মাছেই এভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা এখনও অবিশ্বাস্যই ঠেকছে পুষ্পদেবীর পরিবারের কাছে।