দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা আক্রান্ত হয়েও হার না মেনে ফের পরিষেবা দিচ্ছেন। স্বাধীনতা দিবসে এমনই ন’জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে সংবর্ধনা দিল প্রশাসন।
করোনা আক্রান্ত হয়েও যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে যাননি। উল্টে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা মনোবল যোগাচ্ছেন সংক্রামিতদের। শনিবার ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা ও পুষ্প স্তবক হাতে তুলে দিয়ে এমনই ন’জন করোনা যোদ্ধাকে সংবর্ধনা দিল জামালপুর ব্লক প্রশাসন। তাতে আপ্লুত যোদ্ধারা বললেন, এই সংবর্ধনা তাঁদের মনোবল আরও বাড়াবে।
করোনা সংক্রমণে জেরবার গোটা দেশ। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও তার কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুক্রবার আসা রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় একদিনে ৮৬ জনের করোনা পজেটিভ ধরা পড়েছে। সবমিলিয়ে এদিন পর্যন্ত জেলায় কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১৩ জন। তার মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার সাধারণ নাগরিকরাই শুধু করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এমনটা নয়। একেবারে সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে জামালপুর ব্লক হাসপাতালের ৯ জন করোনা আক্রান্ত হন। একসঙ্গে এতজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বন্ধ করে দিতে হয় জামালপুর হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা। আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হওয়ার পর তাঁরা কেউ মনোবল হারিয়ে ফেলেননি। ফের তাঁরা কাজে যোগ দিয়েছেন। শুধু কাজে যোগ দেওয়াই নয়, তাঁরা এখন সংক্রামিতদের মনোবল বাড়ানোর কাজেও মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন।
এমনই ৯ করোনা যোদ্ধাকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সকালে সংবর্ধনা দিতে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান বিডিও শুভঙ্কর মুজুমদার, ওসি অরুণ সোম ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান। হাসপাতাল চত্বরে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার পর তাঁরা করোনায় হার না মানা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ ন’জনকে সংবর্ধনা দেন। তাদের প্রত্যেকের হাতে জাতীয় পতাকা ও পুষ্পস্তবক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের অন্য সব কর্মীদেরকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘‘একেবারে প্রথম সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। করোনা আক্রান্ত হয়েও জামালপুর হাসপাতালের ৯ জন হার মানেননি। সুস্থ হয়ে ফের তাঁরা কাজে যোগ দিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছেন। এরথেকে বড় কাজ আর কী হতে পারে! তাই দেশের স্বাধীনতা দিবসে এঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হল।’’ করোনা আক্রান্ত হয়েও হার না মানা হাসপাতালের নার্স মাধবী দাস বলেন, ‘‘সংবর্ধনা পেয়ে আমাদের মনোবল দ্বিগুণ বেড়ে গেল। করোনা আক্রান্ত হলে মনোবল হারাবেন না। সংক্রামিত ব্যক্তির মনোবল চাঙ্গা রাখলে করোনা তার কাছে হার মানবেই।’’