দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: নিজের তিন কন্যাকে দামোদরের জলে ভাসিয়ে দিলেন বাবা। জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে একজনকে কোনওমতে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাকি দু’জনের খোঁজ মেলেনি।
কুলটি থানার চিনাকুড়ি লাইন পাড়ের বাসিন্দা মিথিলেশ ঠাকুর। মুদির দোকানে সামান্য মাইনের ভরসায় চলে সংসার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মিথিলেশের প্রথম পক্ষের স্ত্রী দুই মেয়েকে রেখে সাত বছর আগে মারা যান। বছর তিনেক আগে দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন মিথিলেশ। ফের এক কন্যা সন্তান হয় তাঁর। তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তিনি।
তাঁর স্ত্রী জানান, বুধবার সকালে স্নান করার অজুহাতে তিন মেয়েকে নিয়ে দামোদর নদের পারে যান মিথিলেশ। এরপর একের পর এক তিন মেয়েকে জলে ছুড়ে ফেলে দেন। স্থানীয় বাসিন্দা দেখতে পেয়ে ঝাঁপ দিয়ে জলে নামেন। তিন মেয়ের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা যায়। কিন্তু বাকি দুই মেয়ে স্রোতের টানে ভেসে যায়।
এলাকাবাসীর ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ডুবুরি নামিয়ে বাচ্চা দুটির খোঁজ শুরু হয়েছে। জানা গেছে উদ্ধার করা গেছে মিথিলেশের প্রথম পক্ষের সন্তান ১০ বছরের মেয়েকে। ভেসে যাওয়া দুই কন্যার একজনের বয়স আট বছর। সে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তান। অন্য মেয়েটির বয়স আড়াই বছর। সে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তান। স্থানীয় মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে মিথিলেশ ঠাকুরকে আটক করেছে পুলিশ।