দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: পাড়ারই বাসিন্দা চিন ফেরত তরুণী চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত। তাই ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে চলা হোক তাঁর গোটা পরিবারের। এমনই গুজব এলাকায় ছড়িয়েছে আগুনের মতো। তারই জেরে বিব্রত হয়ে পড়েছে বসিরহাটের খোলাপোতার মণ্ডল পরিবার।
গত জুন মাসে চিন থেকে ডাক্তারি পাশ করে দেশে ফিরেছেন খোলাপোতার মেয়ে ঋতুপর্ণা মণ্ডল। এমসিআইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এখন দিল্লির কস্তুরীবাগ হাসপাতালে তিনি কর্মরত। সম্পূর্ণ সুস্থ দেহে সেখানে ডাক্তারি করছেন। অথচ তাঁর গ্রাম খোলাপোতা ও লাগোয়া এলাকায় রটে গেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ঋতুপর্ণা। তাই তাঁদের খোলাপোতার বাড়িতে আসা বন্ধ করেছেন প্রতিবেশীদের অনেকেই। প্রতিনিয়তই তাঁদের পড়তে হচ্ছে নানান অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে। এমনকি তাদের বাড়ির পরিচারিকাকেও কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ঋতুপর্ণার বাবা তিলক মণ্ডল পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। মা রেণুকা মণ্ডল ধান্যকুড়িয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সুপারভাইজার। রেণুকাদেবী বলেন, “সারাক্ষণ ওর বাবার কাছে, আমার কাছে ফোন আসছে, সবাই জানতে চাইছেন আমাদের বড় মেয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কি না? পড়শিদের অনেকেরই বদলে যাওয়া ব্যবহার। রীতিমতো বিপন্ন লাগছে। যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হোক।”
https://www.youtube.com/watch?v=hahbzilJLWA&feature=youtu.be
পরিবারকে বাঁচাতে ইতিমধ্যেই দিল্লিবাসী ঋতুপর্ণা ভিডিওর মাধ্যমে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, “আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি, আমার কর্মস্থলে রয়েছি। যারা এই ধরনের গুজব রটাচ্ছেন তা সম্পূর্ণ না জেনেই করছেন।” তবে ঋতুপর্ণার বোন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া রনিতা বলছেন, “দিদির এমন আবেদনেও কোনও কাজ হয়নি। গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়নি। খুবই বিরক্তিকর একটা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি আমরা।”
মণ্ডল পরিবারে গত এক বছর ধরে পরিচারিকার কাজ করেন কোহিনুর বিবি। পাড়ার লোক তাঁকে কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোহিনুর বিবির কথায়, “আমি অন্য বাড়িতেও কাজ করি। সেখান থেকে বলা হচ্ছে এই বাড়ির কাজ ছেড়ে দিতে হবে। না হলে রোগ ছড়াবে। মিথ্যে মিথ্যে কেন ছাড়ব কাজ?”
এমন পরিস্থিতিতে পড়েও এখনও প্রশাসনের দ্বারস্থ হননি পরিবারটি। কারণ মণ্ডল পরিবারকে ঘিরে যেটা চলছে তার পুরোটাই গোপনে। সামনাসামনি এসে কেউ তাঁদের উপর কোনও জোর খাটায়নি। তাই আতঙ্কের থেকেও বেশি বিপন্নতা গ্রাস করেছে ঋতুপর্ণার বাবা-মা-বোনকে।
খোলাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অপরেশ মুখার্জি বলেন, “এই ধরনের গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে শুধু সতর্ক থাকতে বলছেন, বলছেন গুজব না ছড়ানোর জন্য, সেখানে এসব বরদাস্ত করা হবে না।”
কী ভাবে এই গুজবের আঁচ থেকে বাঁচবেন তাঁরা, সেই উত্তর খুঁজছে চিকিৎসকের পরিবার।