শেষ আপডেট: 19 March 2020 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: একরকম সারা হয়ে গেছিল এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তা থমকে যাওয়ায় মুষড়ে পড়েছেন রানাঘাটের বধূ রুম্পা দাস।
২০১০ সালে প্রথম অসামরিক বাঙালি হিসেবে এভারেস্টের সফল অভিযান করেছিলেন বসন্ত সিংহ রায় ও দেবাশিস বিশ্বাস। এ বছর তারই দশম বর্ষপূর্তি। সেই অভিযানের প্রতি সম্মান জানিয়েই এবার এভারেস্টের শিখরে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন রুম্পা। চারজনের একটি রাশিয়ান দলের সঙ্গে সামিট করার কথা ছিল তাঁর। নেপালের অন্যতম বড় ট্যুর অপারেটর সেভেন সামিট এর কাছে সমস্ত টাকাপয়সাও জমা দেওয়া হয়ে গেছিল। হঠাৎই খবর আসে নেপাল ও চিন সরকার এভারেস্ট অভিযান বন্ধ রেখেছে।
পেশায় স্কুল শিক্ষিকা রুম্পার বাড়ি কুপার্স পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাসাপাড়ায়। কৃষ্ণনগরের একটি পর্বতারোহণ ক্লাবের সদস্য রুম্পা। ২০১২ সাল থেকে পর্বতারোহণ শিক্ষা শুরু তাঁর। সান্দাকফু ট্রেকিং দিয়ে শুরু করেছিলেন। ২০১৩-১৪ তে অভিযান করেন কাশ্মীরের রূপকুণ্ডে। ২০১৫ সালে গাড়োয়াল হিমালয়ের মাউন্ট চ্যাঙব্যাঙ। ২০১৭ সালে কুমায়ুনের ত্রিশূল। কারাকোরাম অভিযান করেছেন ২০১৮ সালে।
এতগুলি সফল অভিযানের পর এ বার পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কুপার্স হাইস্কুলের এই দিদিমনি। বললেন, “সাতই এপ্রিল রওনা দেওয়ার কথা ছিল আমাদের। সমস্ত সরঞ্জাম ইতিমধ্যেই চলে গেছে নেপালে। মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম। এখন অভিযান পিছিয়ে যাওয়ায় খারাপ তো লাগবেই।”
তবে সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে মনকে শক্ত করছেন রুম্পা। জানালেন, এ বছরের মতো বাতিল এভারেস্ট অভিযান। নেপালের ট্যুর অপারেটরও জানিয়ে দিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী বছরে সামিট হবে। তাই এবার হিমাচলের নীলকণ্ঠ ছুঁয়ে আসতে চান রুম্পা। চাকরি-সংসার সব সামলে পাহাড়ের ডাকে সাড়া দিতে সবসময়ই প্রস্তুত বছর ৩৮ এর এই স্কুলশিক্ষিকা।