দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দামোদরের ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘের পর বিঘে চাষের জমি। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কনকপুরের বাসিন্দারা।
বর্ষায় জল বাড়তেই দামোদরের বিস্তীর্ণ পাড় জুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। চাষের জমি তলিয়ে যাচ্ছে দামোদরের গর্ভে। এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। ভাঙন রোখার কাজ দ্রুত শুরু না হলে আরও অনেক চাষির জমি দামোদরে তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। ঘটনা জানার পরেই নড়েচড়ে বসে ব্লক প্রশাসন ও সেচ দফতর। দামোদরের ভাঙন ব্যাপক আকার নেওয়ার খবর পেয়েই ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা কনকপুর গ্রামে যান। সরেজমিনে ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। দামোদরের ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেচ দফতরকেও জানানো হয় ।
বর্ষায় দামোদরে জল বাড়তেই বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুরে নদী পাড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এই খবর পেয়েই ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের একটি দল ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কনকপুর গ্রামে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দামোদর নদের বাঁ দিকের পাড় ঘেঁষে বেলে মাটির বড় চর তৈরি হয়েছে। সেই কারণে জলের স্রোত নদীর ডান দিকের পাড়ে ধাক্কা মারছে। ফলে কনকপুর গ্রামের ৪০০ মিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে দামোদরের পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।
কনকপুর গ্রামের বাসিন্দা কিশোর ঘোষ, ধর্মদাস দাসরা বলেন, ‘‘গত দু'বছর ধরে দামোদরে জল বাড়লেই স্রোত ডানদিকের পাড়ে ধাক্কা মারছে। ফলে পাড় ভাঙছে। এ বছর ভাঙন মারাত্মক আকার নিয়েছে। গ্রামে প্রায় হাজার ঘরের বসবাস। দামোদরের ভাঙনে অনেকের চাষজমি ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ভাঙন আটকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে গ্রামের অনেক চাষি জমিহারা হবে।’’
বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘‘এলাকার চাষিরা জানিয়েছেন, বিগত ১০ দিনের ভাঙনে অনেকেরই চাষজমির একটা বড় অংশ দামোদরে তলিয়ে গিয়েছে। জল বাড়লে আরও বেশি এলাকা জুড়ে ভাঙন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।’’
ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেচ দফতরের আধিকারিকরাও কনকপুর গ্রামে যান। ভাঙন সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট মহকুমাশাসককে পাঠানো হয়েছে। সেচ দফতরকেও জানানো হয়েছে। মহকুমাশাসক সুদীপ দাস বলেন, ‘‘কনকপুর গ্রামে দামোদরের ভাঙন সংক্রান্ত সবিস্তার রিপোর্ট সেচ দফতরের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হয়েছে। সেচ দফতরের লোকজনও ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন।’’
সেচ দফতর থেকে জানানো হয়েছে যেহেতু এখন দামোদরে জল বেশি তাই ভাঙন আটকানোর কাজ এক্ষুনি শুরু করা যাচ্ছে না। জল একটু কমলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হবে।