দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: মারা গেল মধুবালা। দীর্ঘ ৫০ বছর বন দফতরের সঙ্গে তার সম্পর্ক। তাই শোকের ছায়া জলদাপাড়ায়।
জানা গেছে, পঞ্চাশ বছর আগে জলদাপাড়ার জাতীয় উদ্যানে এসেছিল মধুবালা। কুনকি হাতি হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে নিজের দায়িত্ব। জঙ্গল পাহারার কাজ করত মধুবালা। বয়সজনিত কারণেই রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন দফতরের আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, ১৯৩০ সালে জন্ম মধুবালার। পৃথিবীর সব থেকে বড় পশুমেলা হয় বিহারের শোনপুরে। সেই মেলা থেকে ১৯৬৯-৭০ সাল নাগাদ রাজ্য বনদফতর তাকে কিনে আনে। তারপর প্রায় অর্ধশতক ধরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল পাহারা- সহ আরও নানান কাজ করেছে মধুবালা। আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছে মধুবালা।
বন দফতরের কর্তারা জানান, সম্প্রতি সব দাঁত পড়ে গিয়েছিল মধুবালার। প্রায় কিছুই খেতে পারছিল না সে। বয়সজনিত নানান রোগও শরীরে বাসা বেধেছিল। অবশেষে রবিবার ভোরে ময়রাডাঙ্গা বিটে তার মৃত্যু হয়। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা কোনওদিন ভুলবে না জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মধুবালার মৃত্যু জাতীয় উদ্যানের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল। বয়সজনিত কারণে মধুবালার মৃত্যু হয়েছে।”
এই দুঃখের মধ্যেও এদিন একটি সুখবর দিয়েছেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ের পেট ফালা ফালা হয়ে যাওয়া একটি পুরুষ গন্ডারকে জাতীয় উদ্যানের ভেতরেই বেঁহুশ করে অপারেশন করেন বন দফতরের চিকিৎসকরা। একদিনেই তাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে বলে দাবি জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের। এই ঘটনাকে ‘মিরাকেল’ বলেই মনে করছেন তাঁরা।