স্পর্শ না করে জালে জড়িয়ে নালা থেকে তোলা হল হাতির ছানাকে, জঙ্গলে ফিরিয়ে নিল দল
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ছানার ডাক শুনে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে এলো মা। আর তা দেখতে পেয়ে একছুটে মায়ের কাছে ফিরে গেলো ছোট্ট ছানা। এরপরেই প্রাণভরে দুধ খাওয়ার পালা শুরু। রেঞ্জ অফিসারের উপস্থিত বুদ্ধির জেরে দুগ্ধপোষ্য হাতির ছানাকে ফিরিয়ে নিল দল। এ
শেষ আপডেট: 9 October 2020 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ছানার ডাক শুনে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে এলো মা। আর তা দেখতে পেয়ে একছুটে মায়ের কাছে ফিরে গেলো ছোট্ট ছানা। এরপরেই প্রাণভরে দুধ খাওয়ার পালা শুরু। রেঞ্জ অফিসারের উপস্থিত বুদ্ধির জেরে দুগ্ধপোষ্য হাতির ছানাকে ফিরিয়ে নিল দল। এই ঘটনায় খুশির হাওয়া বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের কর্মীদের মধ্যে। এমন বিরল ঘটনায় উৎফুল্ল পরিবেশকর্মীরাও।
হাতি, চিতাবাঘ বা অন্যান্য বন্যপ্রাণী যদি কোনওভাবে মানুষের সংস্পর্শে আসে তবে তাকে আর ফিরিয়ে নেয় না দল। এটাই জঙ্গলের নিয়ম। তাই কারবালা চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া হাতির ছানাটিকে তার দল ফিরিয়ে নেওয়ায় ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবেই তা চিহ্নিত হয়ে রইল।
বৃহস্পতিবার রাতে ছানাপোনা নিয়ে প্রায় ৫০ হাতির একটি দল ডুয়ার্সের রেতি জঙ্গল থেকে কারবালা চা বাগানে ঢুকে পড়ে। দলে থাকা একটি ছানা কোনওভাবে পড়ে যায় কারবালা চা বাগানের ১ নম্বর সেকশনের একটি নালায়। তাকে তুলতে না পেরে রাতভর তাণ্ডব চালানোর পর ভোর হতেই রেতি নদী পেরিয়ে জঙ্গলে ফিরে যায় দলটি। নালা থেকে উঠতে না পেরে চিৎকার করতে থাকে ছানাটি।
সকাল হতেই হাতির ডাক শুনতে পেয়ে ছুটে আসে আশেপাশের শ্রমিক বস্তির বাসিন্দারা। নালার মধ্যে ছোট হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখে তারা খবর দেন বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডে। বনকর্মীরা গিয়ে স্থানীয় মানুষদের সহযোগিতায় প্রথমে জাল দিয়ে মুড়িয়ে দেয় ছানাটিকে। এরপর বেলচা দিয়ে নালার মাটি কেটে নালার আয়তন বাড়িয়ে জাল টেনে ওপরে তোলা হয় ছানাটিকে।

রেঞ্জার শুভাশিস রায় জানান, সকাল সকাল খবর পেয়ে তাঁরা টিম নিয়ে ছুটে যান কারবালা চা বাগানে। তিনি বলেন,‘‘দেখতে পাই নালায় পড়ে আছে মাসখানেকের একটি মেল বেবি কাব। এরপর আমরা তার গায়ে হাত না দিয়ে তার গায়ের ওপর জাল বিছিয়ে দেই। এরপরে তাকে জালবন্দি করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাই রেতি নদীর পারে। জঙ্গলের ভেতর ছিল হাতির দলটি। ছানাটিকে নদীর পারে ছেড়ে দিতেই সে চিৎকার করতে করতে জঙ্গলের দিকে যেতে থাকে। তার চিৎকার শুনে ছুটে আসে মা হাতিটি। এরপরেই ছানাটি গিয়ে দুধ খেতে শুরু করে।’’
তখন নদীর ধারে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন বনকর্মীরা। ছানাটিকে শেষপর্যন্ত ফিরিয়ে নেবে তো তার দল? অচিরেই উত্তর মেলে সেই প্রশ্নের। ছানাটিকে নিয়ে ধীরে ধীরে জঙ্গলে ঢুকে যায় মা হাতি। খুশি মনে ফেরার পথ ধরেন বনবিভাগের কর্মী-আধিকারিকরা।
পরিবেশপ্রেমী সংগঠন স্পোরের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পান্ডে বলেন, ‘‘এটা অত্যন্ত আনন্দের খবর। বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এইভাবে যদি নালায় পড়ে যাওয়া হাতির ছানাগুলিকে আগামীতেও উদ্ধার করা যায় তবে নিশ্চই ফিরিয়ে নেবে তাদের দল।’’