দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : সোমবার এগরায় রাজ্যসড়কের ধারে ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণীর দেহ। তাঁর পরিচয় জানা যায়নি এখনও। তবে ব্যাগ ঘেঁটে মিলেছে একটি কোম্পানির আইকার্ড। রক্তে ভিজে নষ্ট হয়ে গেলেও পুলিশকর্তারা কোনওক্রমে পড়তে পেরেছেন তাতে লেখা একটি নাম। তারই ভিত্তিতে এখন তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
সোমবার সকাল দশটা নাগাদ এগরা দিঘা রাজ্যসড়কের ধারে শনি মন্দিরের কাছে একটি পরিত্যক্ত ট্রলিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। খবর পেয়ে এগরা থানার পুলিশ পৌঁছে ওই ব্যাগ থেকে এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেন। বছর ১৮র ওই তরুণীকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে খুন করে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
শুরু হয় তদন্ত। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ওই ট্রলি ব্যাগ থেকে যে আইকার্ডটি পাওয়া গেছে তাতে গৌতমী দেবনাথ নামটি পড়তে পেরেছেন পুলিশকর্তারা। বাকি সমস্ত লেখাই রক্তে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই খুনের তদন্তে এই নামই এখন ভরসা। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সমস্ত থানাকে সতর্ক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কোথাও এই নামে কোনও মিসিং ডায়েরি হলে এগরা থানাকে জানাতে বলা হয়েছে। পুলিশকর্তাদের অনুমান, অন্য কোথাও খুন করে এনে জাতীয় সড়কের ধারে ফেলে রেখে যাওয়া হয় দেহ।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩৮৩১৩ আপ হাওড়া-মেচেদা লোকালে একটি বড় লাল রঙের ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল রেল পুলিশ। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কারশেডে চলে গিয়েছিল ট্রেনটি। রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ ট্রেনের কামরা পরিষ্কার করার সময় একটি বস্তা নজরে আসে সাফাই কর্মীদের। সেটি খুলতেই দেখেন বড় লাল রঙের একটি ট্রাভেলব্যাগ। সেই ব্যাগের ভেতর মুড়ে রাখা ছিল এক যুবকের দেহ। তখন পরিচয় জানা না গেলেও একদিনের মধ্যেই মৃত যুবকের পরিচয় বার করে রেল ও রাজ্য পুলিশ। জানা যায় বছর ৪৫ এর ওই ব্যক্তির নাম হাসান আলি। কলকাতার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের বাসিন্দা তিনি। শুরু হয় খুনের তদন্ত। জানা যায় ব্যবসায়িক লেনদেনের কারণেই খুন করা হয় তাঁকে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সন্দেহে চারজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খোঁজ চলছে আরও দুজনের।
সেই ঘটনার পর আবার পূর্ব মেদিনীপুরেই ট্রলি ব্যাগে মিলল এক তরুণীর দেহ। এই খুনেরও দ্রুত কিনারা হবে এমনটাই আশা জেলার পুলিশকর্তাদের।