দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: স্বীকৃতি পেল কোচবিহারের মানুষের আবেগ। যাত্রী পরিবহণে দোতলা বাসকে জুড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা। শুক্রবার ছিল বোর্ড মিটিং। সেখানেই শহরে দোতলাবাস চালানোর সিধান্তে শিলমোহর পড়ে। তবে কোন কোন রুটে এই দোতলা বাস চলবে তা এখনও ঠিক হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই কোচবিহারের মানুষ চেয়ে এসেছেন শহরের পথে আবার চলুক দোতলা বাস। তাই উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার সিদ্ধান্ত বিকেলের পর ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের গতিতে। ১৯৮১ সাল থেকে চালু থাকা ঐতিহ্যবাহী দোতলা বাস পুরোপুরি থমকে যায় ২০১২ সালে। ২০১৮ সালে হায়দরাবাদের একটি মিউজিয়ামে সেই বাস পাঠানো পাকা করে ফেলে সংস্থা । কিন্ত কোচবিহারের মানুষের প্রতিবাদে তা আর হয়ে ওঠেনি।
২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পথে নামে না বাস। রোদ-বৃষ্টিতে মরচে পড়ে নষ্ট হতে বসেছিল তিনটি বাসের অবশিষ্টটিও। এবার সে আবার সেজে উঠবে। পথে চলবে। দোতলার আসনে বসে পড়ন্ত বিকেলে শহরের শোভা দেখবেন মানুষ। এই ভাবনাতেই খুশির হাওয়া শহরজুড়ে।
শুক্রবার উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার বলেন, ‘‘নভেম্বর মাস থেকে দোতলা বাস চালানো হবে। তবে কোন রুটে এবং কীভাবে এই বাস চালানো হবে তা এখনও ঠিক হয়নি।’’ একসময় রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচের কথা ভেবেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দোতলা বাস পরিষেবা। মাঝে পর্যটন ক্ষেত্রকে লাভজনক করতে ‘সবুজের পথে হাতছানি’ প্যাকেজ ট্যুরে কোচবিহার থেকে লাটাগুড়ি এবং বক্সা পরিক্রমার জন্য চালু হয়েছিল দোতলা বাস । পরে ওই প্রকল্পও বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুরোপুরি বসে যায় দোতলা বাস। সেই থেকেই এই রাজশহরের মানুষ চাইছিলেন আবার পথে নামানো হোক দোতলা বাস।
শহরের ইতিহাস গবেষক দেবব্রত চাকি বলেন, ‘‘দেরিতে হলেও জেলার মানুষের আবেগকে মান্যতা দেওয়া হল। কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানাই।’’