দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: তেলের খনির সন্ধানে রাতভর ডিনামাইট বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল বসিরহাটের বাদুরিয়ার রায়পুর গ্রামে। বেশ কিছু বাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ক্ষতি হয়েছে বিঘের পর বিঘে চাষের জমির। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বিডিও জানান আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে।
বাদুড়িয়ায় তেলের সন্ধান চালাচ্ছে ওএনজিসি। তেলের সন্ধান করতে গিয়ে সোমবার রাতে এবং আজ মঙ্গলবার ভোরে ডিনামাইট ফাটানো হয়। তীব্র শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন বাসিন্দারা। এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ। ফেটে চৌচির হয়ে গেছে চাষের জমিও। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রায়পুর চণ্ডীপুর চাতরা সহ বেশকিছু গ্রামের মানুষ।
ভোরের আলো ফুটতেই দেখা যায় ওই এলাকায় প্রচুর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির দেওয়ালে ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে বাড়ির উঠোনে। সকাল হতেই ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও গ্রামের সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, তেলের খনির সন্ধান করতে গিয়ে অসাবধানতায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে ওএনজিসি কর্তৃপক্ষ। একদিকে কৃষক পরিবার-সহ অন্য বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি ভয়ংকর আওয়াজ শুনে আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে গেছেন অনেকে।
বাদুরিয়ার বাগজোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শাহানুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘‘এত মানুষের ক্ষতি হল। বেশিরভাগ বাড়িতে ফাটল ধরেছে। চাষের জমিও ফেটে গেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কী করে এত মানুষকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে জানি না। অশোকনগরের কল্যাণগড়ে তেলের খনির সন্ধান পেয়েছিল ওএনজিসি। সেখান থেকে তেল তোলার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পদ্ধতি মেনেই কাজ হয়েছিল। তাই সমস্যা হয়নি। কিন্তু বাদুড়িয়াতে কেন সেই পদ্ধতি মানা হল না?’’
খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে যান বাদুরিয়ার বিডিও সুপর্ণা বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামবাসীদের কাছে অভিযোগ পেয়েছি। কার কতটা ক্ষতি হয়েছে তা লিখিত আকারে জানাতে বলেছি। নিশ্চই ক্ষতিপূরণ পাবেন তাঁরা। এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ওএনজিসি কর্তৃপক্ষকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
ওএজিসির এক আধিকারিক বিমান পালও জানান, গ্রামবাসীদের অসুবিধার বিষয়টা তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।