
শেষ আপডেট: 22 February 2020 06:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: চারদিনে পাঁচ গণ্ডারের রহস্য মৃত্যু জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। অসুস্থ আরও দুই। পর পর গণ্ডারের মৃত্যুতে দিশেহারা বনদফতর। উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে জারি করা হল হাই এলার্ট।
ইতিমধ্যেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শিশামারা ও মালঙ্গি এই দুই বিট এলাকাকে ‘কোয়ারেন্ডাম’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এই দুই বিট এলাকা থেকে বন্যপ্রাণীদের অন্য এলাকায় যাতায়াতও বন্ধ করে দিয়েছে বনদফতর। এই দুই এলাকাকে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই কাজে লাগানো হয়েছে কুনকি হাতিদের। কিন্তু পরপর গন্ডারের মৃত্যুর রহস্য এখনও উন্মোচন করতে পারেনি বনদফতর।
রাজ্যের বন্যপ্রাণ বিভাগের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা বলেন, “শুধু স্ত্রী গণ্ডারের মৃত্যু হচ্ছে। সুস্থ রয়েছে দুধ খাওয়া বাচ্চা। মৃত পাঁচ গণ্ডারের মধ্যে একটির নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। অন্যগুলোর তেমন কিছুই ঘটেনি। সেই কারনে অ্যানথ্রাক্স ভাইরাসের কারণে এই মৃত্যু তাও হলফ করে বলা যাচ্ছে না।” তিনি জানান, এই রকম মৃত্যুর অভিজ্ঞতা রাজ্য বনদফতরের এর আগে হয়নি। তাঁরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াকে বিষয়টি জানিয়েছেন। কোন ভাইরাসের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। জলদাপাড়ায় শিবির করে উত্তরবঙ্গের বনপালকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে।
রবিবার থেকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গণ্ডারের মৃত্যু শুরু হয়। লাগাতার এক শৃঙ্গ গণ্ডারের মৃত্যু হচ্ছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে। এর আগে ১৯৯৪ সালে একবার অ্যানথ্রাক্সে মারা যায় জলদাপাড়ায় বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণ। ফের ২৬ বছর পর আবার পরপর গণ্ডারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গণ্ডার ছাড়া অন্য কোনও বন্যপ্রাণের মৃত্যুর খবর এখনও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে রাজ্য বনদফতর। শুক্রবার শিশামারিতে আরও এক গণ্ডারের মৃত্যুর খবরে সেই উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আরও একটি গণ্ডার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। প্রতিশেধক দিতে বলা হয়েছে। আমরা জলদাপাড়ার দুই বিট এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। এই দুই এলাকায় অন্য কোন বন্যপ্রাণের প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা থেকে প্রাণী সম্পদ দফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। মৃত গণ্ডারদের টিস্যু ও রক্তের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই বলা সম্ভব কীভাবে এই সব বন্যপ্রাণের মৃত্যু হচ্ছে। তার আগে কিছুই বলা সম্ভব নয়।”
যে এলাকায় গণ্ডারের এই মড়ক শুরু হয়েছে সেই এলাকা লাগোয়া গ্রামগুলিতে গৃহপালিত জন্তুর উপরেও নজর রাখছে বনদফতর।