দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পণের দাবিতে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তৃণমূল বিধায়কের ছেলে ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে রাজগঞ্জ থানার দ্বারস্থ হন বিধায়কের পুত্রবধূ ও তাঁর পরিবার। লিখিত অভিযোগ জমা নিলেও রাজগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিকরা কোনও রিসিভ কপি দেননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
চলতি সপ্তাহেই ময়নাগুড়িতে এক সাংবাদিককে চড় মারার অভিযোগ উঠেছিল ময়নাগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারীর বিরুদ্ধে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পণের দাবিতে পুত্রবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠল রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। এমন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়িতে। ২০১৯ সালের ১৩ ই মার্চ ময়নাগুড়ি ব্লকের উল্লাডাবরি ডাঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বলিদেব রায়ের মেয়ে পিঙ্কি রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের ছেলে দিবাকর রায়ের। বিয়ের পর থেকেই নববধূর উপর পণের দাবিতে অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ।
পিঙ্কি রায়ের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাঁর উপর স্বামী সহ পরিবারের অন্যান্যরা বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতে থাকে। টাকার জন্য প্রায়দিন শ্বশুর ও তার ছেলে মদ্যপ অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। কিন্তু যেহেতু তাঁর বিয়ের সময় বাপের বাড়ি থেকে যাবতীয় আসবাব পত্র, ৫ ভরি সোনার গয়না, নগদ ২ লক্ষ টাকা উপহার হিসেবে দিয়েছে তাই সে লজ্জার চোটে আবার টাকা দেওয়ার জন্য বাড়িতে কিছুই বলতো না। অত্যাচার সহ্য করত।
পিঙ্কির আরও অভিযোগ, ২৭ অগস্ট বিকেলে তার শাশুড়ি তার উপর অত্যাচার করে তার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে দেয়। এরপর তিনি দেশলাই আনতে গেলে কোনওভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে সোজা বাপের বাড়ি চলে আসেন। কয়েকবার মিমাংসার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘এর আগে বেশ কয়েকবার থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলে আমার পিছু নিতো কিছু লোক। একইসঙ্গে আমার শ্বশুর নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দিয়ে হঠিয়ে দিতো। তবে শুক্রবার কিছু সহৃদয় ব্যক্তির সাহায্য নিয়ে থানায় বিস্তারিত ভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলাম। যদিও রাজগঞ্জ থানার পুলিশ আমাকে অভিযোগ সংক্রান্ত কোনও রিসিভ কপি দেয়নি।’’
ঘটনা নিয়ে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘‘ঠিক কী অভিযোগ হয়েছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’’
জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, ‘‘রাজগঞ্জ থানায় একটি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা অভিযোগকারিণীর সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি নির্দিষ্ট দফতরের প্রোটেকশন অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।’’