
শেষ আপডেট: 2 July 2020 06:06
জামালপুর ব্লকের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম হৈবতপুর। এই গ্রামের এক পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। সেই দামোদরের বিস্তীর্ণ চর এখন ঢাকা পড়েছে ঝোপ জঙ্গলে। নির্জন ওই ঝোপের মাঝখানে বড় বড় উনুন জ্বালিয়ে সারাদিন ধরে দলে দলে চোলাই কারবারিরা তৈরি করছে চোলাই মদ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর জ্বলছে উনুন। সেই সব উনুনে বড় বড় হাঁড়িতে ফুটিয়ে তৈরি হচ্ছে চোলাই মদ। তারই আশে পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায় একাধিক টিনের ড্রামে ভরে রাখা গুড়ের পচাই, ইস্ট, ইউরিয়ার বাট।
বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের হৈবতপুর গ্রামের সদস্য প্রতিভা ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু লোক দামোদরের চড়ে ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে চোলাই মদ তৈরি চালিয়ে যাচ্ছে। এরজন্য এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কোনও কোনও সময় পুলিশ ও আবগারি দফতরের লোকজন ওই জায়গায় হানা দেয়। তারা চোলাই কারবারিদের কাউকে কাউকে তুলে নিয়ে যায়। আবার তারা ছাড়াও পেয়ে যায়। তাই দামোদরের চরে মদ তৈরি চলছেই।
হৈবতপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ ঘোষ, দিব্যেন্দু দলুইরা জানান, তাঁদের এলাকায় দামোদরের চরে ঝোপ জঙ্গলে মধ্যে চোলাই মদ তৈরি চলছেই। দিব্যেন্দু বলেন, ‘‘যেসব দ্রব্য ব্যবহার করে ওই মদ তৈরি হয় তা মানব শরীরের পক্ষে হানিকর বলেই আমরা মনে করি। সেই কারণে এই চোলাই মদ খেয়ে যদি শান্তিপুর কিংবা সংগ্রামপুরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না।’’
আর এক বাসিন্দা দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই হৈবতপুর এলাকায় দামোদরে অবৈধ বালি খাদান ও চোলাই মদের কারবার চলেছে। ওই চোলাই মদের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে দামোদরে। তার ফলে দামোদরেও দূষণ বাড়ছে। প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ না করলে এইসব অবৈধ কাজ কোনও দিনও বন্ধ হবে না।’’
জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার অবশ্য দাবি করেন, দামোদরের চরে অবাধে চোলাই মদ তৈরি হচ্ছে এমন ঘটনা জানা নেই। তিনি বলেন, ‘‘তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। ঘটনা যদি সত্যি হয় তবে সবিস্তারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। কড়া আইনানুগ পদক্ষেপও করা হবে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।’’