দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: লকডাউনে পুরসভার তরফে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ নিয়ে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নিজের নিজের ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিলি করলেও অন্যান্য ওয়ার্ডে সমানভাবে সরকারি সাহায্য বন্টন করছেন না বলে অভিযোগ তুললেন ইংরেজবাজার পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি। আর এই অভিযোগ ঘিরে রীতিমত অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস।
ইংরেজবাজার পুরসভার তরফে সমস্ত ওয়ার্ডে মানুষদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা শুরু হয়েছে। আর এতেই উঠছে বৈষম্যের অভিযোগ। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি রবিবার নিজের ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি শুরু করতেই এলাকাবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, অন্যান্য ওয়ার্ডে অনেক বেশি পরিমাণে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। এই ওয়ার্ডে পরিবার পিছু যে সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে তা অত্যন্ত সামান্য। আর এই নিয়েই কাউন্সিলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। এমন অবস্থায় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন কাউন্সিলর নরেন্দ্র তিওয়ারি। এলাকাবাসীদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি।
পরে পুরসভার বিরুদ্ধেই বৈষম্যের অভিযোগ আনেন নরেন্দ্র তিওয়ারি। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিভিন্ন পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা বেশি পাচ্ছেন খুশি হচ্ছেন। কিন্তু যাঁরা কম পাচ্ছেন তাঁরা প্রতিবাদ করছেন। সেরকমই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলতাপাড়া গয়েশপুরের মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু পুরসভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান নিজেদের ওয়ার্ডে বেশি বেশি পরিমাণে সামগ্রী বিলি করেছেন। তা নিয়ে অন্য ওয়ার্ডের মানুষ ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘‘পুরসভার যাঁরা পদাধিকারী তাঁরা নিজেদের ওয়ার্ডে মর্জি মতো সামগ্রী দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মতও কাউন্সিলরদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে সামান্য পরিমাণে। পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলাশাসককে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাব।’’
যদিও ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নিহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‘কাউন্সিলরের অভিযোগ ভিত্তিহীন। সব ওয়ার্ডেই সমান খাদ্য সামগ্রী বন্টন হয়েছে। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’’