
শেষ আপডেট: 29 September 2020 12:06
তাঁতের শাড়ির গায়ে বুটিতে ফুটিয়ে তোলেন করোনা ভাইরাসের নকশা। সঙ্গে লেখা দু’ হাজার কুড়ি। অভিনবত্ব খোঁজা ক্রেতারা হয়তো আকৃষ্ট হবেন এই শাড়ির প্রতি। পুজোর মুখে ঘুরে দাঁড়াবেন তাঁরাও। এমনটাই ছিল ভাবনা। কিন্তু কাজে এল না তা। তাঁর কথায়, ‘‘এর আগে নানা সমসাময়িক ঘটনা শাড়ির গায়ে নকশার আকারে ফুটিয়ে তুলেছি আমরা। বেশ মনে পড়ে বেশ কিছু বছর আগে কলকাতার তিনশো বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁতের শাড়ির গায়ে বিশেষ নকশা করেছিলাম। তাতে শুধু আমি একা নই, ব্যবসায়িক সাফল্য এসেছিল এখানকার অনেকের ঘরেই। তবে এ বছর আমার তৈরি করোনা বুটির শাড়ি তিন মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিনশোটা। ছ’শো শাড়ি তৈরি করেছিলাম। এখনও তিনশো পিস ঘরেই পড়ে রয়েছে। করোনার কাছে হার মানতে বাধ্য হলাম এবার।’’
শান্তিপুর ফুলিয়ার ৯০ শতাংশ মানুষ বয়ন শিল্পের সাথে জড়িত। লুঙ্গি গামছা ইত্যাদি বুনলেও বেশিরভাগ ঘরেই তৈরি হয় শাড়ি। রাজ্যের সীমা ছাড়িয়ে দেশের সর্বত্র যে শাড়ির সুনাম। কিন্তু করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাজ্যের বিভিন্ন হাট। গণ পরিবহন ব্যবস্থাও থমকে রয়েছে। বাজারের অভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু তাঁত শিল্পী। সরকারি ব্যবস্থা কিছু থাকলেও তা পরিমাণের তুলনায় যৎসামান্য। তথ্যপ্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অনলাইন ব্যবসা খানিকটা চালু থাকলেও সাবেকি তাঁত ব্যবসায়ীরা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে অজ্ঞ হওয়ার কারণে এখনও অথৈ জলে। বুদ্ধিমত্তা-অভিজ্ঞতা-পরিশ্রম কাজে লাগিয়ে সেই ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা চলছে। তবে এ বার তাতেও পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে বলেই আক্ষেপ শান্তিপুরের তাঁত শিল্পীদের।