দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের। যে বিতর্কের কারণে হাসপাতাল সুপার দেবব্রত দাসকে সরে যেতে হয়েছিল সেই একই বিতর্ক আবারও জড়াল এই হাসপাতাল। কোভিড আবহে মৃত এক ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেটে লিখে দেওয়া হল তিনি কোভিড পজিটিভ। যার জেরে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হল মৃতের পরিবার এমনকি খোদ প্রশাসনিক কর্তাদেরও।
কেন এই ভুল তা নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলেও দুর্গাপুর নগর নিগমের শ্মশান বৈদ্যুতিক চুল্লি সংক্রান্ত দফতরের মেয়র পরিষদ রুমা পাড়িয়াল প্রশ্ন তুললেন, ‘‘কেন এত বড় ভুল করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যার জন্য চূড়ান্ত হয়রানি হতে হলো আমাদের?
চলতি মাসের তিন তারিখ কোভিড নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসায় বেনাচিতির এক ব্যক্তিকে কাঁকসার মলানদিঘি বিশেষ করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সোমবার ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাওয়ায় কোভিড হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রিপোর্টে লিখে দেওয়া হয় রোগীর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ। সোমবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে রাত পৌনে দশটায় দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ফের ভর্তি করা হয় ওই ব্যক্তিকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিসিইউ ইউনিটে ভর্তি থাকা ওই রোগী মারা যান। অভিযোগ মলানদীঘির বিশেষ করোনা হাসপাতালের দেওয়া নেগেটিভ রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেটে লিখে দেন কোভিড পজিটিভ।
এতেই বাঁধে বিপত্তি। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মৃত ব্যাক্তিকে সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বীরভানপুর শ্মশানে। রিপোর্ট দেখা মাত্রই শ্মশানের কর্মীরা মৃতদেহ সৎকার করতে অস্বীকার করেন। খবর যায় কোকওভেন থানায়। খবর পান দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অনির্বাণ কোলেও। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ফের মহকুমা হাসপাতালে ফেরত নিয়ে আসা হয়। দুর্গাপুর নগর নিগমের মেয়র পরিষদ রুমা পাড়িয়াল বলেন, ‘‘চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।’’
দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সহ প্রশাসনিক অধিকর্তা স্বরূপা ভট্টাচার্য স্বীকার করে নিয়েছেন এই ভুলের কথা। সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করে পুরো ঘটনার তদন্ত হবে বলে হাসপাতালের এই আধিকারিক জানিয়েছেন। গোটা ঘটনায় মঙ্গলবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে শহরে।