দ্য ওয়াল ব্যুরো, বোলপুর: রাত পোহালেই বিশ্বভারতীর সমাবর্তন। করোনা পরিস্থিতির কারণে সম্ভবত এই প্রথম কোনও সমাবর্তনে বিশ্বভারতীর আচার্য ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখবেন। এর আগে ডিসেম্বর মাসেও বিশ্বভারতীর শতবর্ষের সূচনায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখেছেন বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এ দিকে বিশ্বভারতীর তরফে সমাবর্তনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হতেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রশ্ন উঠেছে সম্পূর্ণ পড়ুয়াবিহীন এই সমাবর্তনের লক্ষ্য কী? একটি শিক্ষাবর্ষে বিশ্বভারতীর ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রায় আড়াই হাজার পড়ুয়ার কেউই যখন সমাবর্তনে উপস্থিতই থাকতে পারবে না তাহলে সমাবর্তন আসলে কাদের?
এ সবের মাঝেই বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার আম্রকুঞ্জের সমাবর্তনে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশাঙ্ক, বিশ্বভারতীর রেক্টর তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সমাবর্তন নিয়ে বিশ্বভারতীর নিজস্ব ওয়েবসাইটে যে সাধারণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আম্রকুঞ্জে সমাবর্তন হবে। আমন্ত্রিত অতিথিরা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর, প্রতিটি ভবন কিংবা বিভাগের অধ্যক্ষ, ডিন, প্রক্টর, পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালের মুখ্য আধিকারিক, নিরাপত্তা আধিকারিক, ফ্যাকাল্টি মেম্বার, সেকশন অফিসার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এছাড়াও নির্বাচিত এনসিসি, এনএসএস ভলান্টিয়াররা থাকবেন। সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে প্রত্যেককে পরিচয় পত্র হাতে পৌঁছতে হবে আম্রকুঞ্জে। উত্তরায়ণের সামনে যে গেটটি রয়েছে সেটি দিয়েই প্রবেশ করবেন সকলে।
সমাবর্তনের দিনক্ষণ বাছা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এক ভবনের অধ্যক্ষ জানান, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলেও এ ব্যাপারে কোনও আলোচনা হয়নি। ওয়েবসাইট দেখে তিনি জানতে পেরেছেন আগামীকাল সমাবর্তন। সকালবেলা তাঁকে উপস্থিত থাকতে হবে। বিশ্বভারতীর পড়ুয়াদের একাংশ বলছেন, "সমাবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কোনও ছাত্রছাত্রী উপস্থিত থাকতে পারবে না। এমন সমাবর্তন না করে পরবর্তীতে দুবছরের সমাবর্তন একসঙ্গে করাই যেত। প্রতিবছরই সমাবর্তন হয় এমন তো নয়। তাহলে এ বছর বন্ধ রেখে একসঙ্গে দু'বছরের সমাবর্তনে অসুবিধা কোথায়?" পড়ুয়ারা জানান, বিশ্বভারতীর সমাবর্তন ঘিরে বিগত দু'বারই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগের মতো আর কোনও কিছুই নেই। এই অবস্থায় এমন ভার্চুয়াল সমাবর্তন আবারও একবার নজির গড়বে বলে মত তাঁদের।
আচার্যের উপস্থিতিতে শেষবার সমাবর্তন হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৫ মে। বিশ্বভারতীর আচার্য তথা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী উপস্থিত ছিলেন সেবার। সমাবর্তন শেষে একাধিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এর আগে ২০১৩ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সমাবর্তন হয়। প্রায় পাঁচ বছর পরে সমাবর্তন হওয়ায় ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারের বেশি ছিল। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর বিশ্বভারতীর পরিদর্শক তথা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের উপস্থিতিতে শেষবার সমাবর্তন হয়েছে বিশ্বভারতীতে। সেখানেও ঐতিহ্য মেনে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ছাতিমপাতা দেওয়া, শান্তিবচন পাঠ বাদ যায়।
এবারও সম্পূর্ণ ভিন্নধারার একটি সমাবর্তন দেখবে বিশ্বভারতী। কর্তৃপক্ষের একটা অংশের মত, সমাবর্তন প্রতিবার না হলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তাতে সমস্যা হয়। অন্যদিকে, আগে থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে ভিতরে ঢুকতে না পারলেও বাইরে অনেকে ভিড় করতেন। এই পরিস্থিতিতে যেটা সামলানো সমস্যার হত। সবদিক চিন্তা করেই একেবারে শেষ মুহূর্তে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।