দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সমিতির হিসেব নিয়ে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। আর তারই জেরে সমবায় সমিতির ম্যানেজারের চাষ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সমবায় সমিতির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
পূর্ব বর্ধমানের গলসি ১ নম্বর ব্লকের মনোহর সুজাপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার সালাউদ্দিন মল্লিকের চাষ বন্ধ করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠল কয়েকজন বোর্ড সদস্যের বিরুদ্ধে। গত ৩ অগস্ট গলসি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সালাউদ্দিন মল্লিক। তাঁর দাবি, পাঁচ-ছ’বিঘে চাষের জমিতে চাষ করেছিলেন তিনি। সেই জমিতেই আবার ধান চারা রোপন করে দিয়েছেন সমিতির কয়েকজন সদস্য। তিনি বলেন, ‘‘আসলে সমিতির হিসেব নিয়েই ওই গণ্ডগোলের সূত্রপাত। সমবায়ের সদস্যরা সরকারি অডিট মানতে চাইছেন না।’’ এই ঘটনার জেরে কয়েকদিন আগেই বন্ধ হয়ে গেছে ওই সমবায় সমিতিটি। তারপরেই ম্যানেজারের জমির চাষে বাধা দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।
ইতিমধ্যেই বিষয়টি ব্লক সমবায় আধিকারিককের নজরে এনেছেন উভয় পক্ষ। তবে সমিতির সম্পাদক ইমদাদুল হক মল্লিকের দাবি, ম্যানেজারের জমির চাষ তাঁরা বন্ধ করেননি। সমিতির সদস্য ও কিছু চাষি জনগনের টাকার হিসেব বুঝে নেওয়ার জন্য এমনটি করেছে।
তিনি বলেন, ‘‘ওই সমিতিতে ধান বিক্রির কমিশন, সার বিক্রি, কৃষি ঋণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ঋণ-সহ একাধিক বিষয়ে বেশ গরমিল রয়েছে। ওই বিষয়ে সমবায় সমিতির নতুন বোর্ড হিসেব চাওয়ায় ম্যানেজার সঠিক হিসেব দেখাতে পারছেন না।’’ তাঁর দাবি, পুনরায় অডিট করে বিগত দিনের হিসেবের স্বচ্ছতা দেখানো হোক নতুন বোর্ডকে। তা না হলে পরবর্তীতে দায়ভার তাদের ঘাড়ে আসবে। হিসেবের স্বচ্ছতা ও সরকারি টাকা সুরক্ষিত করাই নতুন বোর্ডের উদ্দেশ্য।
পুলিশ জানিয়েছে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’পক্ষের অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘এমন অভিযোগ পেয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’