দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জটিল অস্ত্রোপচার চলছে মস্তিষ্কের। রোগী কিন্তু সজ্ঞানে। পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তাররা মাঝেমধ্যেই রোগীর কাছে তাঁর নাম জানতে চাইছেন। জানতে চাইছেন ডান বা বাঁ হাত নাড়তে পারছেন কি না তিনি। সাধ্যমতো জবাবও দিচ্ছেন রোগী।
এখন এমন পদ্ধতিতে মাঝেমধ্যেই মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার হয় কলকাতার মতো বড় শহরের সুপার স্পেশালিটি অনেক হাসপাতালে। তবে বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে একটি বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তাররাও এবার এই পথে। তাই আলোড়ন সৃষ্টি হল গোটা জেলায়।
গলসির মনোহর সুজাপুর গ্রামের বৃদ্ধ বদরে আলম পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা মস্তিস্কে অপারেশন করার কথা বলেন। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে সাধারণ চিকিৎসাও এখন বড়ো সমস্যার। তাই এই অবস্থায় খুবই চিন্তায় পড়েন রোগী ও তার পরিজনরা। তখন এগিয়ে আসেন ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এই হাসপাতালের নিউরো সার্জেন ডাঃ জি পি গর্গের নেতৃত্বে চিকিৎসর দল রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষানিরীক্ষার পর তাঁকে অপারেশনের জন্য তৈরি করেন। রোগীকে অচেতন না করেই পুরো প্রক্রিয়াটা সারা হয়।
ডাঃ গর্গ জানান, মস্তিষ্কের অপারেশন খুবই জটিল কাজ। মস্তিষ্কের নানা অংশে থাকে দেখা, শোনা বা শরীরের নানা অঙ্গ নাড়াচাড়ার নিয়ন্ত্রক স্নায়ু। সেগুলি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগী অনেকসময় আংশিক বা পুরো পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কখনও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। কখনও শ্রবণক্ষমতা কমে যায়। এই পদ্ধতিতে এই ঝুঁকিগুলি ন্যুনতম। অপারেশনের সময় কেবল সংশ্লিষ্ট এলাকা লোকাল অ্যানাস্থেসিয়া করে অবশ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘‘চেতনা থাকায় অপারেশনের সময়েই রোগীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন চিকিৎসকরা। কখনও হাত নাড়তে বলেন, কখনও নাম জিজ্ঞেস করেন। এভাবেই রোগীর শোনা বা অঙ্গের নাড়াচাড়ার বিষয়টি ঠিক আছে কি না বোঝা যায়। এই রোগীও খুব ভালভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন। মনোবল হারাননি কখনও। তাই অপারেশন সফল হয়েছে।’’
কলকাতার থেকে দুরের এক মফস্বলে এমন ভাবনার প্রয়োগ অবশ্যই উল্লেখ করার মতো বলে মনে করেন কলকাতার বিশিষ্ট নিউরো সার্জেন ডাঃ কৌশিক শীল। তিনি বলেন, ‘‘এলোকেন্ট এরিয়াতে টিউমার থাকলে আমরা অনেক সময় এই পদ্ধতি নেই। প্রথম পর্যায়ের অপারেশন অর্থাৎ মাথা খোলার সময় রোগীকে পুরোপুরি অজ্ঞান করা হলেও, পরের পর্যায়ে অর্থাৎ টিউমারটি বের করার সময় অ্যানাস্থেশিয়া কিছুটা কমিয়ে হাল্কা করে দেওয়া হয়, যাতে রোগীর সঙ্গে কমিউনিকেট করা যায়। তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়। এরজন্য খুবই দক্ষ টিম দরকার। বিশেষত এক্ষেত্রে অ্যানাস্থেটিস্টয়ের ভূমিকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমনভাবে রোগীকে অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হবে যাতে তিনি ব্যথা না পান, অথচ তাঁর চেতনা থাকে।’’
তিন দিন আগে এই অপারেশন হয়েছে বর্ধমানের ওই হাসপাতালে। এখন দিব্যি ভাল আছেন বদরে আলম। হাসপাতালের ডাক্তারদের বারবার ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।