দ্য ওয়াল ব্যুরো, দার্জিলিং : করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানোয় এক অজ্ঞাত পরিচয় মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল দার্জিলিং সদর থানায়। তাঁর পরিচয় জানতে কোমর বেঁধে নামল সাইবার শাখা।
গত দু’তিনদিন ধরেই দার্জিলিং শহরে হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে একটি ভয়েজ মেসেজ। তাতে এক নারীকণ্ঠে বলা হচ্ছে, দার্জিলিং শহরের একটি নামী হোটেলের একজন গার্ড করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে শহরেররই একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হোটেল ও নার্সিংহোমের নামেরও উল্লেখ রয়েছে ওই ভয়েজ ক্লিপিংয়ে।
এই ভয়েজ মেসেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়বাসীর মধ্যে। তবে বিষয়টি নজরে আসতেই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, করোনায় আক্রান্ত কোনও রোগী তাঁদের তত্ত্বাবধানে ভর্তি নেই। বিষয়টি একেবারেই মিথ্যে। নার্সিংহোমের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ডি কে শর্মা বলেন, “ওই ভয়েজ ক্লিপে আমাদের নার্সিংহোমের নাম উল্লেখ করা হলেও এমন কোনও রোগী এখানে ভর্তি নেই। বিষয়টি জানার পরেই আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।” ওই হোটেল কর্তৃপক্ষও জানিয়ে দেন, তাঁদের কোনও কর্মী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এ খবর পুরোটাই মিথ্যে। এর কোনও ভিত্তি নেই। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) অমিত গুপ্তা বলেন, “এটা একটা গুজব। আমাদের সমস্ত কর্মীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। সম্প্রতি এমন গুজব ছড়ানোর পরেও মেডিক্যাল টিম এসে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। কারও শরীরে এমন সংক্রমণের উপসর্গ নজরে আসেনি।”
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশও জানিয়েছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এমন প্রচার। এর কোনও সত্যতা নেই। দার্জিলিঙের পুলিশসুপার অমরনাথ কে জানান, এমন ধরণের গুজব মোকাবিলার জন্য পুলিশের সাইবার শাখাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এই ভয়েজ ক্লিপিং প্রকাশ্যে আসতেই ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ পুলিশে অভিযোগ জানান। তার ভিত্তিতে করোনা নিয়ে গুজব রটানোর অভিযোগে এক মহিলার বিরুদ্ধে দার্জিলিং সদর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। জেলা পুলিশের সাইবার সেল এই হোয়াটসঅ্যাপের উৎস খুঁজছে। কোথা থেকে কারা এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তাদের খুঁজে বার করা হবে।
তিনি বলেন, “এমন গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। ভারতীয় দণ্ডবিধি ও সাইবার আইনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মানুষের কাছে আমাদের আবেদন কোনও গুজবে কান না দিয়ে সত্যি জানতে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে আসুন।”