দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই বদলে গেল পরিস্থিতি। নেতাই গ্রামের নেতাই শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির শহিদ বেদীর পাশে জোড়া ফুলের বদলে এখন উড়ছে পদ্মফুলের ঝান্ডা।
নেতাইয়ের গ্রামবাসীদের কথায়, শুভেন্দু অধিকারী কোন রাজনৈতিক দল করবেন, তাঁদের কাছে তার কোনও গুরুত্ব নেই। ব্যক্তি শুভেন্দুকেই চেনেন তাঁরা। ২০১১ সালের ৭ ই জানুয়ারি নিতাইয়ের গণহত্যার পর প্রতিবছর ৭ ই জানুয়ারি নেতাই গ্রামে শহিদ বেদিতে মাল্যদান করার জন্য পৌঁছে যান শুভেন্দু। খোঁজখবর নেন নেতাই গ্রামের মানুষের অভাব অভিযোগের। শোনেন সমস্যার কথা।
এলাকার মানুষের বক্তব্য, শুভেন্দুবাবু তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেতাই গ্রামে বহু কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। শুভেন্দুর হাত ধরে অনেকেই চাকরি পেয়েছেন কেউ অস্থায়ী কেউ বা পাকাপোক্ত। কিছুদিন আগে শুভেন্দু নিজ উদ্যোগে গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য ৫২ টি সেলাই মেশিন এবং গৃহহীনদের জন্য পাকা বাড়ি তৈরি করে দেন। সেদিনের ঘটনায় নিহত সরস্বতী ঘড়াই এর ছেলে তুষার ঘড়াই বলেন, ‘‘শুভেন্দুবাবু আমাদের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। আমরাও সারাজীবন ওঁর পাশে থাকব।’’
নেতাই শহিদ স্মৃতিরক্ষা কমিটির উদ্যোগে অরাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিবছর নেতাইয়ের শহিদ দিবস পালিত হয় যদিও অরাজনৈতিক মঞ্চ, কিন্তু আয়োজন করেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাই। প্রতিবছর উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী । ২০১১ এর থেকে গোটা গ্রাম সমর্থন করে তৃণমূলকে। কিন্তু শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রঙ বদলে গেল নেতাই গ্রামের।
গ্রাম জুড়ে দেখা গেল বিজেপির ঝান্ডা। কোথাও দিলীপ ঘোষ, কোথাও কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, আবার কোথাও নরেন্দ্র মোদীর ফ্লেক্স। গ্রামের মধ্যেই রয়েছে নেতাই শহীদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির শহীদ বেদী । সেখানেও দেখা গেলো উড়ছে বিজেপির ঝান্ডা । নেতাই শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি দ্বারকানাথ পান্ডে বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামের লোক আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছে। শুভেন্দু কোন দলে গেলেন, কী করলেন তা আমরা গ্রামের লোক কেউ কিছু দেখব না। শুভেন্দু অধিকারী আমাদের গ্রামকে ভালবাসেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গ্রামে আসেন, উনি যে দলই করুক না কেন আমরা উনাকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। সুতরাং উনাকে আমরা দল হিসেবে দেখি না, মানুষ হিসেবে দেখি। নেতাই গ্রামের লোক শুভেন্দু অধিকারীকেই চেনে, তাঁর রাজনীতিকে প্রাধান্য দেয় না।’’ তাই রাতারাতিই রং বদলে গেল নেতাই গ্রামের।