দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি : পুলকার দুর্ঘটনায় মৃত ঋষভের বাবা সন্তোষ সিংকে সোমবার ফোন করে পরিবারের সবার খোঁজ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়াভাবে হাসপাতালে ঋষভকে দেখতে যেতে না পারায় আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ বাচ্চাদের স্কুলে আনার পথে পোলবার কামদেবপুরে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে একটি পুলকার। ১৫ জন কচিকাঁচা ছিল গাড়িটিতে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের আঘাত ছিল গুরুতর। প্রচণ্ড গতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে একটি পোস্টে ধাক্কা মেরে নয়ানজুলিতে উল্টে যায় পুলকারটি।
এই দুর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছিল দুই ছাত্র ঋষভ সিং এবং দিব্যাংশু ভগত। গ্রিন করিডোর করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল তাদের। চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে তৈরি করা হয়েছিল সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিম। সেদিন রাতেই অস্ত্রোপচার হয় ঋষভের। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল এই ছাত্রের অবস্থা। সময় যত এগিয়েছে ক্রমশ খারাপ হয়েছে পরিস্থিতি। দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা শরীরে। ডাক্তারদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার রাতে মৃত্যু হয় ঋষভের। যাবতীয় উৎকণ্ঠা শেষে শোকের ছায়া নামে শ্রীরামপুরের বেনিয়াপাড়ায় ঋষভদের বাড়িতে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেন ঋষভের বাবা সন্তোষ সিংকে। সন্তোষ সিং বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সব সময় খোঁজ খবর নিলেও নিজে হাসপাতালে যেতে পারেননি ব্যাস্ততার কারণে। আজ ফোন করে সে কথাই বললেন। পরিবারের সবার খোঁজ নিলেন। পাশে থাকারও আশ্বাস দিলেন। পুলকারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করতে বলেছেন আমাদের।”
ঋষভের বাড়ির পরিধি ছাড়িয়ে এখনও শোকে স্তব্ধ গোটা বেনিয়াপাড়া। যে যেমন করে পারছেন, ঋষভের বাবা মায়ের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। ১৮ তারিখ বিয়ে ছিল ঋষভের এক পিসির। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানও আগেই বাতিল করা হয়েছে।