দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: এনআরসি আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না বাসিন্দাদের। তাই আধার কার্ড সংশোধন হচ্ছে খবর শুনে মালদা শহরের হেড পোস্ট অফিসে উপচে পড়ল ভিড়। এই ভিড়ের ঠেলায় মঙ্গলবার সকালে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা শহর। আধার কার্ড সংশোধনের জন্য ভিড়ে ঠাসা লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কিছু শিশু ও মহিলা। তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য তাদেরকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হঠাৎ করে মালদহ শহর এলাকায় প্রধান ডাকঘরে আধার কার্ড সংশোধন করাতে আসা মানুষদের লম্বা লাইনে নাভিশ্বাস উঠে যায় প্রশাসনের। খবর পেয়ে শহরের প্রধান ডাকঘরে পৌঁছোয় ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। তারপর শুরু হয় পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি। পুলিশ কর্তাদের দাবি, আগাম অনুমতি না নিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়াড়া মোড়ে হেড পোস্ট অফিসে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু করা হয়েছে। পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধান না করে হঠাৎ করে এই কাজ শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
যদিও পুলিশের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানিয়েই এখানে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু করা হয়েছে।
এনআরসি নিয়ে গোটা দেশ জুড়ে চলছে বিভ্রান্তি, প্রতিবাদ, আন্দোলন। তারই মধ্যে মালদা শহরের প্রাণকেন্দ্র ফোয়ারা মোড়ে হেড পোস্ট অফিসে আধার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে জানাজানি হতেই মঙ্গলবার সকালে শহর এবং গ্রামীণ এলাকার মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। দমবন্ধ অবস্থা হয়ে যায় অনেকের। ঠেলাঠেলিতে পদপিষ্ট হওয়ার আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ে। বেলা গড়াতেই দুই থেকে তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন পড়ে যায়। আর এই ভিড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে শহরের যান চলাচল ব্যবস্থা। যা নিয়ে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকেন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা।
এদিন আধার কার্ড সংশোধন করতে আসা ইংরেজবাজার ব্লকের মহদিপুর এলাকার বাসিন্দা আয়েশা বিবি ভিড়ের চাপে অসুস্থ বোধ করে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এরকমই আরও বেশ কয়েকজন মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে যান। চিকিৎসার জন্য তাদের নিয়ে যাওয়া হয় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আধার কার্ড সংশোধন করতে আসা ইংরেজবাজার ব্লকের মিলকি গ্রামের বাসিন্দা নইমুদ্দিন সেখ, রাজিয়া বিবি বলেন, “শীতের রাতে তিনটা থেকে লাইন দিয়েছি। কাজ হবে কি না জানি না। না হলে সারারাত এখানে থেকে যেতে হবে। মাঝেমধ্যে শরীর খারাপ করছে। জানি না কি হবে।”