দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রশাসনের নয়া নির্দেশিকায় চরম ক্ষতির মুখে বর্ধমানের ব্যবসায়ীরা। জেলাজুড়েই কোভিডের গ্রাফ ঊর্ধমুখী। তারমধ্যে বর্ধমান শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই। তাই সংক্রমণ রুখতে শহরের সবজি ও মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত পাইকারি সবজি ও মাছের বাজার খোলা থাকবে। ঠিক তেমনি সকাল সাতটা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত খুচরো সবজি ও মাছের বাজার খোলা রাখা যাবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন এই সময়ের মধ্যে সব জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে না। প্রতিদিনই প্রচুর আনাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাছও পচে যাচ্ছে। তাই দারুণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা।
একে করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ লকডাউনের সময় মন্দা শুরু হয় ব্যবসায়। সেই ক্ষতি এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেননি তাঁরা। এখন দোকান বাজার খুললেও সময় নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় বিক্রি মার খাচ্ছে। পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী দশরথ চৌধুরী বলেন, ‘‘এতদিন দোকান খুলতেই পারিনি। সংসার অচল হয়ে গেছিল। এখন বাজার খুললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বেচাকেনা করতে হচ্ছে। ক্রেতারা না আসায় প্রতিদিন প্রচুর সবজি নষ্ট হচ্ছে। গতকালই বাঁধাকপি, কাঁচা লঙ্কা, কুমড়ো, টোম্যাটো ফেলে দিতে হয়েছে। কারণ রবিবার হঠাৎই প্রশাসন বাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।’’
বাজার কমিটির সম্পাদক শেখ স্বপন বলেন, ‘‘মাছ ও সবজি বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনই লোকসান হচ্ছে। মাছ বিক্রি হচ্ছে না। সবজি থেকে যাচ্ছে গোডাউনে। আমাদের দাবি দোকান খোলার সময়সীমা আরেকটু বাড়ানো হোক। এই অল্প সময়ের মধ্যে পাইকারি সবজি ও মাছের বাজারে সব জিনিস বিক্রি হচ্ছে না।’’
খুচরো বাজারও বেলা ১১টার মধ্যে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। ফলে পাইকারি বা খুচরো সব জায়গাতেই আনাজ ও মাছ থেকে যাচ্ছে। সব বিক্রি করা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই আনাজ ও মাছ নষ্ট হচ্ছে। বর্ধমান শহরের তেঁতুলতলা বাজার খুলে যায় ভোরবেলাতেই। মাছের পাইকারি বাজার এটি। গণেশ বাজার ও বিসি রোড চত্বরে বসে পাইকারি সবজি বাজার। ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত এতদিন বাজার চলত। কিন্তু কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্ধারিত সময়ের পরে সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাজার।
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বর্ষাকাল ও কোভিডের কারণে এমনিতেই সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে। তার মধ্যে যদি এই ভাবে জিনিসপত্র ঠিক মতো বিক্রি না হওয়ায় ফেলে দিতে হয় তাহলে কীভাবে চলবে ব্যবসা! সংসারই বা সামলানো যাবে কী ভাবে?’’