দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা ভাইরাসের দাপটই হোক আর দুর্গাপুজো! গলসি আছে গলসিতেই।
গলসি ১ নম্বর ব্লকের রামনগর গ্রাম থেকে দু’টি জারে বেশকিছু বোমা উদ্ধার করল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আস্তাকুড় থেকে বোমাভর্তি ওই জ্যারিকেন উদ্ধার করে গলসি থানার পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর গ্রামে শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠীর কোন্দলের জেরে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। অশান্তি রুখতে গ্রামে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।
এলাকার একটি বালি ঘাটের দখল ও কাটমানিকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলা বলে অভিযোগ। দ্বন্দ্বের জেরে সাগর শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীর দু’টি পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া তাঁর বাজারের থলিতে বোমা ভরে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে গ্রামেরই বাবুলাল মল্লিকের গোষ্ঠীর লোকজনের বিরুদ্ধে। সাগরের সেখের স্ত্রীই এই অভিযোগ জানান। গ্রামে ঘর তৈরির জন্য সাগর সেখের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন বাবুলাল মল্লিকের গোষ্ঠী লোকজন। নিজের ক্ষমতা বহাল রাখতে সাগরই গ্রামে বোমাবাজি করেছে বলে অভিযোগ তোলেন বাবুলাল মল্লিক। তিনি বলেন, ‘‘গ্রামে ৬৫ থেকে ৭০ জন গরীব মানুষের সরকারী যোজনার ঘরে অনুদান পিছু বারো হাজার থেকে কুড়ি হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছে সাগর।’’
বোমাবাজির পর থেকে গ্রামে অশান্তি এড়াতে পুলিশের টহলদারি বজায় ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনার পরই পুলিশের দুই গোষ্ঠীর আটজনকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠায়। তারা এখন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছে বলে জানা গেছে। সোমবার সাগর সেখের বাড়ির পাশে কোরবান সেখের আস্তাকুড়ে খাল কেটে কিছু রাখতে দেখে গ্রামবাসীরা খবর দেয় পুলিশে। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ এসে এলাকা ঘিরে ফেলে। খবর যায় সিআইডির বোম স্কোয়াডে। সিআইডির বোম স্কোয়াড এসে ওই বোমা উদ্ধার করে নিক্রিয় করে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। দোষীরা কেউ ছাড়া পাবে না।’’