দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের সাফল্যের পর মধুচন্দ্রিমা তখনও শেষ হয়নি। দুঃস্বপ্নের মতোই বাংলায় তিনটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে ডাহা হেরেছিল বিজেপি। বাংলায় ফের একটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন আসন্ন—আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। তার আগে বুধবার সেখানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে মিছিল গেরুয়া শিবিরকে অনেকটাই স্বস্তি দিল।
এদিন দার্জিলিংয়ে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ফালাকাটায় দিলীপ ঘোষের মিছিল, দিদির মিছিলের তুলনায় আড়ে-বহরে ছিল অন্তত দশ গুণ। যেন জনস্রোত। মিছিল চলছে তো চলছেই। শুধু মিছিল নয়, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ততাও পরিষ্কার দেখা গিয়েছে।
ফালাকাটা ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের সংখ্যা প্রচুর। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন প্রনয়ণের সাফল্য উদযাপন করতেই সেখানে এদিন মিছিল করেন দিলীপবাবু।
মিছিলের শেষে সভা করে দিলীপবাবু বলেন, “মা ভাইবোনেরা সকলে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে, ধর্ম বাঁচাতে এ দেশে পালিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা দীর্ঘদিন এই দেশে রয়েছেন। তাঁরা কেবল মানুষ হিসেবে এখানে রয়েছেন, নাগরিকত্ব পাননি। আমরা তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ করেছি। কিন্তু সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস এর প্রতিবাদ করছে।” সুর চড়িয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে দিলীপবাবু আরও বলেন, “এবার ওরা ভোট চাইতে এলে কলার চেপে ধরবেন। বলবেন, এতদিন আমাদের ভোট নিয়েছো, এমএলএ,এমপি, চেয়ারম্যান হয়েছ, কিন্তু আমাদের নাগরিকত্ব দাওনি।”
বুধবার ফালাকাটার স্টেশন ময়দান থেকে অভিনন্দন যাত্রা বের করে বিজেপি। এই যাত্রা ধুপগুড়ি মোড়, চৌপথি, মিল রোড, থানা মোড় হয়ে ফের ফালাকাটা চৌপথিতে পৌঁছায়। সেখানে একটি পথ সভা করে বিজেপি। অভিনন্দন যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা ও কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ।
মিছিলে জনপ্লাবন দেখে দিলীপবাবু বলেন, “নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাশ হয়ে আইন হয়ে গেছে। বাংলা থেকে ১৮ জন সাংসদ এই আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই আইনে আমাদের কারও কোন অসুবিধে হচ্ছে না। শুধু সিপিএমের কষ্ট হচ্ছে, কংগ্রেসের কষ্ট হচ্ছে, তৃণমূলের কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এই নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি শুধু আমরা বলিনি। মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, নেহেরু বলেছেন, প্যাটেল বলেছেন, মনমোহন বলেছেন, সিপিএম বলেছে, সকলে বলেছে, কিন্তু কেউ দেয়নি। আর আমরা এখন এই দায়িত্ব পালন করছি।”