দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের দেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত হবে আজ। পরিবারের লোকদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির জলপাইগুড়ির সভাপতি বাপী গোস্বামী এবং সাংসদ ডাক্তার জয়ন্তকুমার রায় সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা।
বাপী গোস্বামী বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশ মেনে ময়নাতদন্ত হলে বিজেপির কোনও আপত্তি নেই। সেটা হয় কিনা সেটাই এখন দেখায় অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।’’
মঙ্গলবারই উত্তরকন্যা অভিযানে নিহত বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃতদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে করার নির্দেশ দেয় জলপাইগুড়ি আদালত। উলেন রায়ের দিদি ওইদিন আদালতে জানান, সত্য লুকোতে গভীর রাতে তাঁর ভাইয়ের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আদালত নির্দেশ দিয়েছে আবার ময়নাতদন্ত করতে হবে উলেন রায়ের দেহের।
আদালতের নির্দেশ, তিনজন চিকিত্সকের উপস্থিতিতে এই ময়নাতদন্ত করতে হবে। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করতে হবে। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি সাংসদ ডাক্তার জয়ন্ত কুমার রায় দাবি করেন, ‘‘সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ রয়েছে সূর্যাস্তের পর ময়নাতদন্ত করা যায় না। তারপরও কী এমন পরিস্থিতি হল যে রাতের অন্ধকারে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করতে হল? তাহলে পুলিশ কি কিছু গোপন করতেই এই কাজ করেছে?"
সোমবার বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানের সময় জখম হন গজলডোবার বাসিন্দা বছর ৫০ এর উলেন রায়। পরে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশের লাঠি ও গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে বিজেপির অভিযোগ। যদিও প্রশাসন তা মানতে নারাজ। রানিগঞ্জের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "পুলিশ শটগান ব্যবহার করে না। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শিলিগুড়ির বিক্ষোভ মিছিলে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের আনা হয়েছিল। তারাই গুলি চালিয়েছিল। সেই গুলিই খুব কাছ থেকে লেগে মারা গেছেন ওই ব্যক্তি।’’