দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পালসিট টোল প্লাজায় চক্রান্ত করে গাড়ি আটকানোর অভিযোগ করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা বড়ো ছোট গাড়ি নিয়ে রওনা দেন নবান্নের অভিমুখে। আইএনটিটিইউসি প্রভাবিত শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা গাড়ি দাঁড় করিয়ে টোল প্লাজা অবরুদ্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ।
বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন, এদিন একটু বেলা হতেই কৃত্রিমভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় কলকাতামুখী প্লাজার লেনগুলি। দেখা যায় প্রায় প্রতি লেনেই একটি করে বিকল গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তাতে চালক বা যাত্রী কেউই নেই। সারেসারে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। লরির পিছনে বাস, তার পিছনে ছোটগাড়ি। রীতিমতো অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ব্যাপক যানজট তৈরি হয় জাতীয় সড়ক জুড়ে।
দীর্ঘক্ষণ এইরকম অবস্থা চালু থাকে। মেজাজ হারান বিজেপি নেতা কর্মীরা। তাঁরা বাস থেকে নেমে হুঁশিয়ারি দেন গাড়ি না সরালে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আর তাঁদের হাতে থাকবে না। বিজেপি কর্মী কেশব বলেন, ‘‘এভাবে বিজেপিকে আটকানো যাবে না। তাঁরা যে করেই হোক নবান্ন যাবেন।’’ বিজেপি নেতা অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এটা একটা ষড়যন্ত্র। গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিয়ে তাঁদের পথ আটকানো হচ্ছে। গাড়ি না সরালে আগুন লাগানো হবে।’’
এরপর দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হঠাৎই দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিতে ড্রাইভাররা ফিরে আসেন। গাড়িগুলি চালু হয়ে যায়। লেন সচল হয়। কিছুক্ষণ বেশ কিছু গাড়ি যাওয়ার পর আবার একইভাবে রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। তৈরি হয় যানজট।
পালশিট টোলপ্লাজার ম্যানেজার লম্বোদর পুস্তির দাবি, কেউ ইচ্ছে করে লেন আটকায়নি। লরি বিকল হয়েই যানজট হয় হয়। পরে সেই বিকল লরি সরিয়ে নেওয়া হলে ফের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি তথা তৃণমূলের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযানে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে। শুনেছি টোলপ্লাজার কাছে গাড়ি খারাপ হয়ে গিয়ে যানজট হয়েছিল। এরসঙ্গে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের কী সম্পর্ক বুঝলাম না।’’