দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি : ঘুম পাড়ানোর সময়ে বেধেছিল মস্ত গোলমাল। সাতবার ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে কোনওমতে কব্জা করা গেছিল তাকে। ঘুম ভাঙানোর ইঞ্জেকশন কিন্তু শরীরে ঢোকা মাত্র সটান লাফ। কোনমতে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেন বনকর্মীরা। ধূপগুড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বাইসনকে জঙ্গলে ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো নাকাল হলেন বনকর্মীরা।
https://www.youtube.com/watch?v=UF1oxxGuwDQ
বুধবার সাতসকালে আচমকাই শুরু হয় হইচই। ধূপগুড়ি পুর এলাকায় হানা দেয় এক বাইসন! তার তাণ্ডবে গোটা এলাকায় দিকভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি করতে থাকেন বাসিন্দারা। বাইসনটির হামলায় জখম হন মোট ৯ জন। এঁদের মধ্যে মালতীরানী দত্ত(৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।
বাইসনটিকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে কাবু করতে দিনভর বেশ বেগ পেতে হয় বনকর্মীদের। সাতবার ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়ার পর অবশেষে অজ্ঞান হয় বাইসনটি।
বনদফতর সুত্রে জানা গেছে, এরপর ধূপগুড়ি কলেজপাড়া থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মরাঘাটের জঙ্গলে। সেখানে ডাক্তারের পরীক্ষার পর ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঐ জঙ্গলের পাতিনালা এলাকায়। সেখানে ঘুম ফেরার ইঞ্জেকশন বাইসনের শরীরে যেতে না যেতেই আচমকাই তার জ্ঞান ফিরে আসে। পায়ে বাধা দড়ি ছিড়ে লাফিয়ে চলে আসে বনকর্মীদের দিকে। কোনওভাবে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচেন বনকর্মীরা।
সোনাখালি জঙ্গল থেকে গাদং হয়ে ধূপগুড়ি কলেজপাড়া এলাকায় বাইসনটি ঢুকেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন বনকর্মীরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার ধূপগুড়ির গাড়োকুটা গ্রামে পথ ভুল করে চলে এসেছিল একটি বাইসনের ছানা। তার দু’দিন পরেই বড় বাইসনটি আসে ধূপগুড়ির লোকালয়ে। ছানা বাইসনটির সঙ্গে এই বাইসনের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা অবশ্য জানা যায়নি। বুধবার ১ নম্বর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাইসনের দাপিয়ে বেড়ানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশ ও বনকর্মীরা। বিন্নাগুড়ির ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডও এসে পৌঁছয়। ঘুম পাড়িয়ে তাকে জঙ্গলে ফেরাতে দিনভর ঘাম ছোটে বনকর্মীদের। শেষবেলাতেও তাঁদের নাকাল করেই জঙ্গলে ফিরল বাইসনটি।