শীতের মরসুমে পাখির মারণ যজ্ঞ হাওড়ায়, নজরদারি শুরুর আশ্বাস বনদফতরের
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সন্ধে নামার ঠিক আগেই মাঠ জুড়ে শুরু হয়ে যায় নাইলনের জাল টাঙানোর ব্যস্ততা। সেই জালেই আটকে পড়ে নানান পাখি। সকালে সেইসব পাখি ধরে বিক্রি করা হয় চড়া দামে। শীতের মরসুমে পাখির মাংসে চলে চড়ুইভাতি। আমতার কেঁদোর মাঠে রমরমিয়ে
শেষ আপডেট: 14 January 2020 06:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: সন্ধে নামার ঠিক আগেই মাঠ জুড়ে শুরু হয়ে যায় নাইলনের জাল টাঙানোর ব্যস্ততা। সেই জালেই আটকে পড়ে নানান পাখি। সকালে সেইসব পাখি ধরে বিক্রি করা হয় চড়া দামে। শীতের মরসুমে পাখির মাংসে চলে চড়ুইভাতি। আমতার কেঁদোর মাঠে রমরমিয়ে চলছে পাখির এই মারণযজ্ঞ।
কেঁদোর মাঠের কয়েকশো বিঘা ধানের জমিতে শীতকালে আসে দেশ-বিদেশের নানান ধরনের পাখি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে কিছু মানুষ এসে মাঠের মধ্যে লাইলনের জাল টাঙিয়ে দিয়ে সারারাত সেখানেই বসে থাকে। রাতে ওই জালে আটকে পড়া নানারকমের পাখি সকালে চড়া দামে বিক্রি করে তারা। এক চাষির কথায়, “বহুবার নিষেধ করেছি পাখি না ধরার জন্য। কিন্তু শোনেনি। উল্টে ভয় দেখায়।” এবং সেই হুমকি এতটাই জোরদার যে নামও বলতে চাননি তিনি।

আরেক চাষির কথায়, “সকালের আলো ফুটলেই দেখা যায় জালের মধ্যে আটকে ছটফট করছে অসংখ্য পাখি। আর কয়েকজন জাল থেকে পাখিগুলোকে বের করে ডানা ভেঙে রেখে দিচ্ছে ব্যাগের মধ্যে। এই পাখিগুলো সারাবছর এখানে দেখাও যায় না। শুধু শীতে আসে। এক-একটা পাখি দেড়শো থেকে দু’শো টাকায় বিক্রি হয়। এক শ্রেণির মানুষ শীতের মরসুমে পাখির মাংস দিয়ে চড়ুইভাতি করতে পছন্দ করে। তারাই কিনে নিয়ে যায়।”
স্থানীয় পাখিপ্রেমী চিকিৎসক মৃত্যুঞ্জয় খাঁড়া বলেন, “সরকারের নজরদারির অভাবে এক শ্রেণির মানুষ এ ভাবেই জীবজন্তু ও পাখিকে নির্বিচারে হত্যা করছে। এখনই তাদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।”
আমতা থানার এক আধিকারিক জানান, খোঁজ নিয়ে তাঁরা দেখবেন কারা এ ভাবে পাখি মারছে। বনদফতরের হাওড়া জেলার আধিকারিক বিদিশা বসাক বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরেছি। খুব শীঘ্রই বন দফতরের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় নজরদারি শুরু হবে।”