দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: গোঘাট ১ ব্লকের বিডিও সুরশ্রী পাল সহ আরামবাগে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন ২৯ জন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর গত ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। গত ১৯ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে ২৯ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে।
গত রবিবার ১৯ তারিখ হুগলির গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিওকে আরামবাগের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকেন সেই বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা। বাড়িতে ঢুকতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ জানান তিনি। বাড়ির মালিকের বক্তব্য ছিল, গোঘাট বিডিও অফিসের অধিকাংশের করোনা রিপোর্টই পজেটিভ। বিডিওর কেও রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হবে তাঁকে। এলাকায় যাতে করোনা সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্য প্রতিবেশীরাও বাড়ির মালিকের পাশে দাঁড়ান।
এই নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাকবিতণ্ডা চলে দু’পক্ষের মধ্যে। ঘটনার খবর পেয়ে আরামবাগ থানার পুলিশ গিয়ে ওই বাড়ির মালিক ও তাঁর স্ত্রী- সহ এলাকার ছ’জনকে গ্রেফতার করে। বাড়িতে ঢুকতে পারেন বিডিও। ২০ তারিখ ধৃত আটজনকে আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয়ে সাতজনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
গত ২১ তারিখ গোঘাটের বিডিওর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে নাইসেডে পরীক্ষায় জন্য পাঠানো হয়। ২২ তারিখ তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে। এই খবর আসার পর শুক্রবারই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিডিওর বাসস্থানের আশেপাশের এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়।
কিছু এলাকায় সংক্রমণ কমলেও কিছু এলাকায় বাড়ছে সংক্রমণ। তাই কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা বাড়ল হুগলিতে। গত ৯ জুলাই থেকে ২১ টি কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন শুরু হয়। জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও জানিয়েছেন, ২১ টির মধ্যে ১৪ টি জোনে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে ২০ টি এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগের তালিকায় শ্রীরামপুর ও চন্দননগর মহকুমা এলাকাতেই ছিলো কন্টেইনমেন্ট জোন। নতুন তালিকায় সদর ও আরামবাগ মহকুমার বেশ কিছু এলাকাকে যুক্ত করা হয়েছে।
আগামীকাল গোটা রাজ্যে লকডাউন। রবিবার থেকে হুগলি জেলার ২৭ টি কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চলবে। হুগলি জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৫২৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৫৮৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের।