দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পবিত্র রমজানের প্রথম দিনটিতেই হল মানবতার উদযাপন। লকডাউনে আটকে যাওয়া দুই কাশ্মিরী যুবক রমজানের প্রথম দিনে রোজা শেষে ইফতার করলেন ভাতছালা ওলাইচণ্ডীতলার পল্লব দাসের বাড়িতে।
প্রতিবছর শীতের সময় কাশ্মীর থেকে আসেন বহু মানুষ। শাল-সোয়েটারের পসরা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান তাঁরা। মূলত নভেম্বর মাস থেকে শুরু হয় সিজন। মার্চ-এপ্রিল মাসে পর্যন্ত চলে। তারপরেই বিক্রিবাটা সেরে ভূস্বর্গের মানুষজন ফিরে যান যে যাঁর ঘরে। কিন্তু এবার লকডাউনের জন্য উল্টেপাল্টে গেছে সব। সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরে ফেরা হয়নি।
বর্ধমানের ভাতছালা ওলাইচণ্ডীতলায় পল্লব দাসের বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন দুই কাশ্মিরী যুবক ফাইজর আহমেদ ও মনসুর আহমেদ। এপ্রিলের গোড়াতে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁদের। আটকে পড়েছেন লকডাউনে। এদিকে শুরু হয়ে গেছে রমজান মাস। শনিবার রমজানের মাসের প্রথম দিন রোজা শেষে তাঁদের ঘরে ডেকে নিলেন পল্লবের মা রাইমণি দাস। যত্ন করে বসিয়ে তাঁদের থালায় সাজিয়ে দিলেন ছোলা, খেজুর, মুড়ি, চপ, মিষ্টি আর ফল। ইফতার সারলেন ফাইজার ও মনসুর।
রাইমণিদেবী বললেন, ‘‘আমাদের বাংলায় কোনও ভেদাভেদ নেই। প্রতিবছর শীতের সময় কাশ্মীর থেকে আসেন ওঁরা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে শীতবস্ত্র বিক্রি করেন। এই বাড়িতেই ভাড়া থাকেন ফাইজার ও মনসুর। আমরা একে অপরের বিপদে-আপদে থাকি। এবার ওরা ফিরতে পারেনি বাড়ি। তাই এটুকু ওদের জন্য করব না?’’
অন্য দিকে ফাইজার ও মনসুর বলেন, ‘‘শুনেছি বর্ধমান রাজার আমলের শহর। এমন রাজার মত মন তো রাজার শহরের মানুষেরই হতে পারে।’’