
শেষ আপডেট: 15 June 2020 09:20
ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ জানান, ১৯০৪ সালে মহারাজ বিজয়চাঁদের আমলে বর্ধমানে এসেছিলেন তদানীন্তন বড়লাট লর্ড কার্জন। বর্ধমান স্টেশন থেকে হাতির হাওদায় করে শহরে ঢুকেছিলেন তিনি। গোটা পথ মুড়ে দেওয়া হয়েছিল গালিচায়। পুরবাসীরা ভিড় করে এসেছিলেন বড়লাটকে দেখতে। তখনও কলকাতাই ছিল ভারতের রাজধানী। কার্জনকে স্বাগত জানাতে তৈরি হয় অসাধারণ শৈলির এই তোরণ। তোরণের দু’দিকে দু’টি সিংহ। মাঝখানে রয়েছে পরীদের মূর্তি। তিনি বলেন, ‘‘লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করে দেশবাসীর অপ্রিয় হয়েছিলেন। তবে এ কথাও ঠিক, আমাদের দেশে স্থাপত্য বা ইতিহাস বিজড়িত স্থান সংরক্ষণের তিনিই জনক। সে সময় বড়লাটের সম্মানেই তৈরি হয়েছিল সীতাভোগ আর মিহিদানা। আজও যে মিষ্টি জড়িয়ে রয়েছে বর্ধমান নামের সঙ্গেই।’’
স্বাধীনতার পর লর্ড কার্জনের সময় তৈরি এই তোরণের নাম হয় বিজয় তোরণ। দু'বছর আগে আলোকিত করা হয় এই সৌধকে। যতই নাম বদলাক বর্ধমানবাসী কিংবা এখানে আসা মানুষ সবার কাছেই এই সৌধ এখনও কার্জন গেট নামেই পরিচিত রয়ে গেছে। এখনও যাঁরা রাজার শহরে বেড়াতে আসেন কিংবা শহর নিয়ে ছবি তুলতে আসেন সবাই একবার না একবার এখানে আসবেনই। কার্জন গেটের ছবি ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না এই শহরকে নিয়ে তোলা কোনও তথ্যচিত্র। আগে একবার এই সৌধে ফাটলে দেখা দিয়েছিল। বিজ্ঞাপন আর হোর্ডিং মুখ ঢেকেছিল কার্জন গেটের। নাগরিকদের প্রতিবাদে দু’দুবারই ব্যবস্থা নিয়েছিল পুরপ্রশাসন।
এবারে সৌধের মাথায় বটবৃক্ষ বাড়ছে। বর্ধমান শহরের পুর প্রশাসক অমিত গুহ বলেন, ‘‘এই সৌধ দেখভালের দায়িত্ব পুরসভার। আমরা সেই কাজ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে করি। এবার কার্জন গেটের মাথায় বটগাছ আমাদের নজরে এসেছে। খুব শীঘ্র গাছটিকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’’