দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: ত্রাণ বিলি ঘিরে অশান্তি। উত্তপ্ত হল টিটাগড়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই উত্তেজিত বাম কর্মী-সমর্থকরা টিটাগর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে সরে যান তাঁরা।
লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের নিম্ন আয়ের মানুষজনের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে প্রত্যেকে যাতে দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পান তার জন্য সচেষ্ট হয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। রাজনৈতিক দলগুলিও এ ব্যাপারে নানা কর্মসূচি নিচ্ছে।
করোনা রুখতে দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই বামপন্থী শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা টিটাগড় স্টেশন চত্বরে থাকা মানুষজনকে রান্না করা খাবার পরিবেশন করে আসছেন। অভিযোগ, আজ এই খাবার পরিবেশনের সময় টিটাগড় পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা খাবার বিলিতে বাধা দেয়। তাই নিয়ে শুরু হয় দু’পক্ষের বচসা। বেধে যায় হাতাহাতি। বামপন্থী কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের মারধর করে তৃণমূলের কর্মীরা। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদারের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
সাংসদ বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের শুরু হওয়ার পর থেকেই গরীবদের খাওয়ানো শুরু করেছিলেন আমাদের দলের কর্মীরা। তাতে বারবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়। আজও খাবার বিলির সময় কিছু লোক এসে আমাদের দলের কর্মীদের বাধা দেয়। প্রতিবাদ করায় আমাদের দলের কর্মীদের মারধর করা হয়। তৃণমুলের কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।’’
অভিযুক্ত তৃণমুল কাউন্সিলর রাজেশ দাসের পাল্টা অভিযোগ, বাম শ্রমিক সংগঠনের লোকজন জোর করে কনটেইনমেন্ট জোনে ঢুকে পড়েছিলেন। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের বাধা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। এলাকার মানুষজন ওঁদের বাধা দিয়েছে।’’
টিটাগড় থানার পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।