দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা জানান দিচ্ছে বর্ষা বিদায় প্রায় আগত। এই সময় থেকেই ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে বনকাপাসিতে। দেবীর সাজসজ্জার জোগান দিতে হিমশিম খান এখানকার মানুষ। এবার কিন্তু শরৎ এলেও কালো মেঘ গাঢ় হল আরও।
মঙ্গলকোটের শোলাগ্রাম বনকাপাসি। এ গ্রামের বাসিন্দা দু’হাজার পরিবারের প্রায় সবাই শোলা শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এই শিল্পই বাঁচিয়ে রেখেছে এই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। বনকাপাসি নাম গ্রামের। তবে মানুষের কাছে শোলাগ্রাম নামেই এর পরিচিতি। ডাকের সাজ তৈরিতে এ গ্রামের ভুবনজোড়া খ্যাতি। পুজোর প্রস্তুতি শুরু হলেই প্রতিমার সাজ তৈরির বরাত আসতে থাকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, দেশের নানা প্রান্ত থেকেও। শিল্পীরা জানান, কলকাতা, চন্দননগর, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর, আসানসোল-সহ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে দুর্গা প্রতিমা, কালী প্রতিমার জগদ্ধাত্রী প্রতিমার শোলার সাজ দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ করা হয় এই গ্রাম থেকে। দিল্লি, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, মুম্বই সহ বিভিন্ন শহরে প্রতিমার শোলার বাহারি সাজ সরবরাহ করেন বনকাপাসির শিল্পীরা। দেশের বাইরে যায় এখানে তৈরি শোলার দুর্গা প্রতিমা, সরস্বতী প্রতিমা। তাই মোটের উপর সমৃদ্ধ বনকাপাসি।
করোনা পরিস্থিতিতে সেই সমৃদ্ধ জনপদেই এখন প্রকট হচ্ছে দারিদ্রের ছাপ। গত পাঁচ মাস ধরে শোলার কাজ বন্ধ। ফেব্রুয়ারি মাসে যে অর্ডার গুলি পেয়েছিলেন তার সবই বাতিল হয়েছে। তাঁরা জানান, প্রায় এক কোটি টাকার মতো অর্ডার বাতিল হয়েছে। শুধু একটি কারখানাতেই ২৫ লাখ টাকার বরাত বাতিল হয়েছে। ঋণের বোঝা চেপেছে কারখানার মালিকদের ঘাড়ে। শোলার সাজ তৈরি হয়ে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। আর শিল্পীরা কাজের না থাকায় অনাহারে, অর্ধাহারে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শোলা শিল্পী আশিস মালাকার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘‘কুটির শিল্প হিসেবে বনকাপাসির শোলা শিল্পকে নিয়ে সরকার গর্ব করে। কিন্তু লকডাউনে শিল্পীদের অবস্থার খোঁজ নিল না কেউ।’’ অপর এক শোলা শিল্পী কাশীনাথ পাল বলেন, ‘‘সব শেষ হয়ে গেল। যদি অর্ডার পাই তো বাঁচব। না হলে কী হবে বুঝে উঠতে পারছি না। শোলার কাজ ছাড়া আর কিছু তো পারিও না। না খেতে পেয়ে মরতে হবে। করোনা আমাদের সব শেষ করে দিল।’’
সারা বছরে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয় মঙ্গলকোটের বনকাপাসির শোলাগ্রামে। এখন সে সবই স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। কবে দেশ থেকে যাবে করোনা, এখন সেই আশাতেই দিন গুনছেন বনকাপাসির মানুষ।