দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একসময় কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছিলেন ছিন্নমূল হয়ে। তারপর এই বাংলায় শুরু হয় সুধাংশু বিশ্বাসের বেঁচে থাকার লড়াই। নামখানার নারায়ণপুরে ছোট জায়গার উপর একটা মাথা গোঁজার আস্তানা করেছিলেন। এখন সেই বাড়িতেই বাস তাঁর ছেলে সুব্রত বিশ্বাসের। নদী থেকে ধরে আনা মাছ নামখানা বাজারে বিক্রি করে কোনওমতে সংসারের চাকাটা সচল রাখেন সুব্রতবাবু। একটি গেস্ট হাউজে রান্নার কাজ করে সঙ্গত করেন স্ত্রী অর্চনা।
বৃহস্পতিবার নামখানার ইন্দিরা ময়দানে জনসভা করতে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারপরেই তিনি মধ্যাহ্নভোজ সারবেন সুব্রতবাবুর ঘরে। তারই জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এই হতদরিদ্র পরিবারে। মাছ বিক্রি করে সংসার চলে সুব্রতবাবুর। তবে নিরামিশাষী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য কিন্তু নিরামিষ খাবারই তুলে দিতে হবে তাঁদের। মেনুতে ভাত-রুটি-ডাল-তরকারি ও দই-মিষ্টির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
পাড়ায় বিজেপি সমর্থক হিসেবেই পরিচিতি সুব্রত বিশ্বাসদের। তবে প্রথম যখন জানতে পেরেছিলেন তাঁর ঘরে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করতে হবে তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। সুব্রতবাবু বলেন, ‘‘বিজেপি পার্টির তরফ থেকে সোমবার আমাকে বলা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে ঘরে। আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রাজি হচ্ছিলাম না। এত বড় মানুষকে কীভাবে আপ্যায়ন করতে হয় জানি না তো। শেষপর্যন্ত অবশ্য রাজি হয়েছি। আর এখন তো খুবই ভাল লাগছে।’’
শাহি ভোজের আয়োজন শুরু হয়ে গেছে নারায়ণপুরের ছোট্ট বাড়িতে। খবর চাউর হতেই দলে দলে সুব্রতবাবুর বাড়ি দেখতে চলে আসছেন আশেপাশের লোক। রঙচটা দেওয়ালে নতুন করে রঙের প্রলেপ পড়ছে। দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়েকে নিয়ে সুব্রতবাবুর স্ত্রী অর্চনা লেগে পড়েছেন ঘর পরিষ্কারের কাজে। উঠোনে এখানে সেখানে জমে থাকা আবর্জনাও সাফাই করছেন দুজনে।
অন্যদিন গেস্টহাউজে আসা গেস্টদের জন্য রান্না করেন অর্চনা। এদিন রান্না করবেন তাঁর বাড়িতে আসা বিশিষ্ট অতিথির জন্য। বাছাই করে আনাজ কিনে এনেছেন। সে সব কেটে ধুয়ে রান্নার প্রস্তুতি শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসে প্রথমে সাগরে গিয়ে কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেবেন অমিত শাহ। তারপরে নামখানায় আসবেন। মৎস্যজীবী পরিবারে দুপুরের খাবার সেরে ইন্দিরা মাঠে সভা করবেন তিনি। এরপরে কাকদ্বীপের শ্মশানতলা থেকে র্যালি করবেন নতুন রাস্তা পর্যন্ত। তারপরেই ফিরে যাবেন।