নকিবুদ্দিন গাজি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রোজ গেস্টহাউজের হেঁসেল সামলান। সেই দক্ষতাতেই বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্য পাত সাজালেন নারায়ণপুরের অর্চনা বিশ্বাস। নামখানার সভা সেরে অর্চনার ছোট্ট গৃহকোণেই এদিন মধ্যাহ্নভোজ সারলেন অমিত শাহ। মানী অতিথি। কোনওরকম ত্রুটি যাতে না থাকে, তারজন্য তটস্থ ছিলেন গৃহকর্তা সুব্রত বিশ্বাস ও গৃহকর্ত্রী অর্চনা।
মাছ বাজারে রোজ নদী থেকে আনা মাছ বিক্রি করেন সুব্রতবাবু। আর স্থানীয় একটি গেস্ট হাউজে রান্নার কাজ করেন তাঁর স্ত্রী। তাতেই চলে সংসার। তাই প্রথম বিজেপি পার্টির তরফ থেকে তাঁদের এই আয়োজন করার কথা বলা হয়েছিল থমকে গিয়েছিলেন দুজনেই। পরে অবশ্য ধাতস্থ হন।
সবজিপাতি কেটে ধুয়ে গুছিয়ে রেখেছিলেন বুধবারই। আজ প্রায় রাত ভোর থেকে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি। গোটা পাড়ায় কখনও আসেননি এমন মান্যগন্য ব্যক্তি। তাই প্রস্তুতি যেন ছিল গোটা তল্লাটেরই। নামখানার ইন্দিরা ময়দানের সভা সেরে বেলা দুটো কুড়ি নাগাদ বিশ্বাস দম্পতির বাড়িতে আসেন অমিত শাহ। সঙ্গে দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-সহ অন্য নেতারা। পাড়ার মহিলারা শাঁখ বাজিয়ে স্বাগত জানান তাঁদের।
রান্নায় স্বাভাবিক দক্ষতাতেই এদিন ভাত ও রুটির সঙ্গে অর্চনাদেবী রান্না করেছিলেন সবজির ডাল, বেগুন ভাজা, পনিরের ডালনা, আমের চাটনি আর পায়েস। এর সঙ্গেই অমিত শাহের পাতে সাজিয়ে দেওয়া হয় দই আর মিষ্টি।
একসময় কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছিলেন ছিন্নমূল হয়ে। তারপর এই বাংলায় শুরু হয় সুধাংশু বিশ্বাসের বেঁচে থাকার লড়াই। নামখানার নারায়ণপুরে ছোট জায়গার উপর একটা মাথা গোঁজার আস্তানা করেছিলেন। এখন সেই বাড়িতেই বাস তাঁর ছেলে সুব্রত বিশ্বাসের। নদী থেকে ধরে আনা মাছ নামখানা বাজারে বিক্রি করে কোনওমতে সংসারের চাকাটা সচল রাখেন সুব্রতবাবু। আজ তাঁরই বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজ খেলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মধ্যাহ্নভোজ সেরে কাকদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হয়ে যান অমিত শাহ। সেখানে শ্মশানতলা থেকে নতুন রাস্তা পর্যন্ত র্যালি করেন।