দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ভিতর এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতা–পুলিশ সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাথরপ্রতিমার দিগম্বরপুর। এখানকার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আসা এক মহিলার সঙ্গে ভিলেজ পুলিশের এক কর্মী অশালীন আচরণ করে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। এক অফিসার সহ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে।
দিগম্বরপুর কর্মতীর্থ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হয়েছিল রামনগর আবাদে বাপের বাড়িতে আসা এক মহিলাকে। ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে গার্ড দেওয়ার দায়িত্ব ছিল দিগম্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক ভিলেজ পুলিশের উপর । বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ঢুকে ভিলেজ পুলিশের ওই কর্মী মহিলার শ্লীলতাহানি করে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ওখানে থাকা এলাকার কিছু যুবক প্রথম থেকে তার উপর লক্ষ্য রাখছিল। ওই ঘটনা তাদের নজরে আসার পরেই এলাকার লোকজন ডেকে তাঁরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বাইরের গেটের তালা লাগিয়ে দেয়। ঘটনা জানাজানি হতেই সকাল থেকে এলাকার মানুষ ভিড় করতে থাকেন। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে এলাকা। খবর যায় ঢোলাহাট থানায়। ঢোলাহাট থানার এক অফিসার সেখানে গিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে ওই মহিলা এবং অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশের কর্মীকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলার পর ওই মহিলাকে নিয়ে গাড়িতে তোলে পুলিশ। তখনও অবশ্য ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে জনতা। এই সময় আরেকটি গাড়িতে অভিযুক্তকে তুলতে গেলে পুলিশের গাড়ির উপর ঝাঁপিয়ে পরে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুরু হয় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশের দিকে ছুটে আসতে থাকে ইটের টুকরো। জনতার আক্রমণের মুখে পড়ে বেসামাল হয়ে যায় পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতার ছোঁড়া ইটের ঘায়ে এক অফিসার সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অবশেষে মন্দিরবাজারের ডিএসপির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি বৈভব তিওয়ারি জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও এলাকায় তল্লাশি চলছে। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশের কর্মীকেও। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ওই কর্মীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছি। খুবই গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।’’