দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: করোনা আতঙ্কে এক বিমান সেবিকাকে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল হাওড়ার শিবপুরে। যেহেতু তিনি বিমান সেবিকার কাজ করেন তাই প্রতিবেশীদের অভিযোগ এলাকায় করোনা সংক্রমণ ঘটাচ্ছেন তিনি। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় মানুষজনের একাংশের বিরুদ্ধে।
একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় কেবিন ক্রু হিসাবে কাজ করেন হাওড়া শিবপুরের রামরতন মুখার্জী লেনের বাসিন্দা ওই তরুণী। তাঁর অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতিতে বারবার তাঁকে প্রতিবেশীদের হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। এলাকায় করোনা সংক্রমণের জন্য তাঁকে দায়ী করছেন প্রতিবেশীরা। এই কারণে তাঁকে মারধর ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে ওই বিমান সেবিকা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর এলাকার কিছু প্রতিবেশী প্রকাশ্যে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে অপমান করছেন। তাঁর চরিত্র নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হচ্ছে। রাতে ডিউটি থাকলে বিমান সেবিকার পোশাকে তিনি ফ্ল্যাট থেকে বেরোলে তাঁর পোশাক নিয়েও নোংরা ইঙ্গিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে আমি পাড়ার কুকুরদের খাওয়াচ্ছিলাম। তখন কয়েকজন এসে আমাকে ধাক্কা দেয় ও মারধর করে। বলে আমি করোনার জীবাণু নিয়ে আসছি। তাতে এলাকার লোকেরা সংক্রমিত হবেন। আমাকে পাড়ায় থাকতে দেওয়া হবে না। পিটিশন দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, তাঁদের ফ্ল্যাটে এসেও চড়াও হয় প্রতিবেশীরা। প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হন তাঁর বাবা-মা। এই অবস্থায় তিনি শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফ থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি বলেই তাঁর অভিযোগ।
এমন অবস্থায় যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে ওই তরুণী ও তাঁর পরিবারের। তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার থেকে আমার কাজে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু কীভাবে যাব জানি না। কোম্পানি থেকে যে ক্যাব আসে সেই গাড়িকেও বাড়ির সামনে দাঁড়াতে দেয় না প্রতিবেশীরা। আমাকে ওরা শাসানি দিচ্ছে পুলিশের কাছে গিয়েও কোনও লাভ নেই। তারা পুলিশকে ভয় করেন না।’’
এই অবস্থায় বয়স্ক বাবা মাকে নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন এই বিমান সেবিকা। মেল করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। যদিও শিবপুর থানার পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে কোনও লিখিত অভিযোগ তাঁরা পাননি। লিখিত অভিযোগের পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।