দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃতদের দেহ বাইরে থেকে এনে রায়গঞ্জের বন্দর শ্মশানে দাহ করা হবে। গুজব ছড়িয়েছিল এমনটাই। এই গুজবের জেরে বন্দর শ্মশানে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করলেন এলাকাবাসী। আটকে দেওয়া হল রায়গঞ্জ পুরসভার জঞ্জাল অপসারণের গাড়িও।
এলাকাবাসীর দাবি, বন্দর শ্মশানে বাইরে থেকে এনে কোনও মৃতদেহ দাহ করতে দেওয়া হবে না। শ্মশানের পাশে পুরসভার জঞ্জাল ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ডেও ফেলতে দেওয়া হবে না কোনও জঞ্জাল। বিক্ষোভের জেরে শনিবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়ায় রায়গঞ্জ শহরের বন্দর কলোনি এলাকায়। প্রায় চার ঘণ্টা অবরোধ চলার পরে পুর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
রায়গঞ্জ পুরসভার বন্দর শ্মশানঘাটে মৃতদেহ সৎকার করার জন্য দু’টি সাধারণ চুল্লি ও একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে। শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও রায়গঞ্জ পুর কর্তৃপক্ষ বন্দর শ্মশানঘাট পরিদর্শন করতে আসেন। এরপরেই গুজব ছড়িয়ে পরে জেলার বাইরে করোনায় মৃতদের শবদেহ এই বন্দর শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করা হবে। এই খবর চাউর হতেই এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শ্মশানঘাটে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, রায়গঞ্জ শহরের সমস্ত ময়লা আবর্জনা ও রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সমস্ত বর্জ্য বন্দর শ্মশানঘাট সংলগ্ন এলাকায় এনে ফেলা হয়। এরফলে দুর্গন্ধে থাকা যাচ্ছে না। এলাকায় ব্যাপক দূষণও ছড়াচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই এই এলাকায় আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
বন্দর শ্মশানের দায়িত্বে থাকা পুরকর্মী বৈদ্যনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনিক কর্তাদের পরিদর্শনের পরেই গুজব ছড়ায়। ফলে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজও বন্ধ হয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রতি বছর চৈত্র মাসের হাওয়ায় এই এলাকার ৩০ বছরের পুরনো ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে গন্ধ ছড়ায়। যদিও বর্তমান পুরবোর্ড এই ডাম্পিং গ্রাউন্ডকে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলেছে৷’’
স্থানীয় কাউন্সিলর তপন দাস বলেন, ‘‘করোনায় মারা গেছেন এমন কারও দেহ এই শ্মশানে পোড়ানো হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তারপরেই এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নিয়েছে৷’’