দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শুক্রবারও জামিন হল না তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের। দু’দফায় ৭ দিন তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। ধৃতের বাড়ি থেকে দু’টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে গুলি উদ্ধার হয়নি। ধৃতের কাছে আরও ২৩টি গুলি রয়েছে বলে আদালতে দাবি করে পুলিশ। সেগুলি উদ্ধারের জন্য তাঁকে দ্বিতীয়বার হেফাজতে নেওয়া হয়। যদিও গুলি উদ্ধার হয়নি।
নিত্যানন্দ তদন্তে সাহায্য না করায় গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে শুক্রবার আদালতে জানায় পুলিশ। জামিন বাতিলের আবেদনে নিত্যানন্দকে বিপজ্জনক এবং তাঁর কারণে তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও উল্লেখ করে পুলিশ। সব শুনে এই তৃণমূল নেতাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে তাঁকে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।
বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোনে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিত্যানন্দর বিরুদ্ধে। আউশগ্রামের ইটাচাঁদার তৃণমূল কর্মী শেখ সুজাউদ্দিনের দায়ের করা এই অভিযোগ পেয়েই ২২ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ গ্রেফতার করে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে। পুলিশেরর আবেদন মঞ্জুর করে নিত্যানন্দর বন্দুক ও রিভলভারের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক।
যেদিন তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে, সেদিনই থানায় ঢুকতে ঢুকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন গুসকরার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ। বলেছিলেন, “জামিন পেলেই কেষ্ট মণ্ডলের কলার ধরব!”
প্রথমে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের পর তাঁকে ফের বর্ধমান এসিজেএম আদালতে তোলা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। আদালতে নিত্যানন্দর আইনজীবী কমল দত্ত বলেন, “যে ধারায় মামলা করা হয়েছে তা আদৌ প্রযোজ্য নয়। শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর বিরোধের জেরে এই মামলার উৎপত্তি। তাছাড়া পুলিশ প্রথমে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানায়নি। পরে চাপে পড়ে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।” প্রাক্তন কাউন্সিলরের জামিনের আবেদন জানান তিনি।
পাল্টা সরকারি আইনজীবী ও অভিযোগকারীর আইনজীবী সওয়াল করে বলেন, নিত্যানন্দ জামিন পেলে.এলাকায় বড়সড় গণ্ডগোল হতে পারে। তাঁর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক বাজেয়াপ্ত করারও আবেদন জানানো হয়।
নিত্যানন্দর বক্তব্য, অনুব্রত মণ্ডল তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা শোধ না করার জন্য তিনি তাগাদা দেন। সেজন্য তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে অনুব্রত অবশ্য বলেন, “নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের কাজই সবাইকে হুমকি দেওয়া। ওর কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র আছে। বিনা লাইসেন্সের আগ্নেয়াস্ত্র আছে বলে হুমকি দেখায়। যত সব পাগলামো।” পাশাপাশি টাকা ধার নেওয়ার প্রসঙ্গে অনুব্রতবাবু বলেন, ‘‘আমি ওর কাছে কোনও টাকাই নিইনি।’’