দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: গোটা জেলাতেই কোভিডের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে আগামী শনিবার ঈদ। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে উৎসব নিয়ে বৈঠক করল পুলিশ প্রশাসন। ভাতার ব্লক অফিসে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাতারের বিভিন্ন গ্রামের মসজিদের ইমাম ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা।
করোনাভাইরাসের জেরে গোটা দেশের মানুষ বিপন্ন। জেরবার বাংলাও। প্রতিদিনই একদিকে যেমন কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, ঠিক তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে কোভিডে। মোট মৃতের সংখ্যা এখন ১৫। গোটা জেলায় আক্রান্ত প্রায় ৬০০ জন। কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে দু'শো ছুঁই ছুঁই। বর্ধমান শহর সহ জেলার কালনা, কাটোয়া ও মেমারি পুর এলাকায় লকডাউন চলছে। বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকাতেও লকডাউন জারি করা হয়েছে। চলছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের নাকা তল্লাশি। নরমে গরমে বেপরোয়া মানুষজনদের সর্তক করছে পুলিশ। জেলা পরিষদ কার্যালয়ে কোভিডের কারণে তালা পড়েছে। প্রতিদিনই পুলিশ কর্মী থেকে আধিকারিক বা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। লকডাউনে লাগাম দেওয়া যাচ্ছে না কোভিডে।
তাই এদিন বৈঠকে উপস্থিত ইমামদের উৎসব নিয়ে সচেতন থাকার বার্তা দিল প্রশাসন। জানিয়ে দেওয়া হল নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নমাজ পাঠ করতে হবে, প্রত্যেককে মাস্ক পড়ে নমাজ পাঠে অংশ নিতে হবে। এক জায়গায় বহু মানুষ জমায়েত হয়ে নমাজ পড়বেন না। প্রশাসনের আধিকারিকরা মসজিদের ইমামদের গোটা বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন।
বৈঠকে উপস্থিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আমজাদ শেখ বলেন, ‘‘প্রশাসনের আধিকারিকরা বেশ কয়েকটা বার্তা দিলেন। সেগুলো তাঁরা এলাকার প্রতিটা গ্রামে পৌঁছে দেবেন। করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ যাতে করে আরও সচেতন হতে পারে সেই জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ। মানুষের স্বার্থে সবাইকে তা মেনে চলতে হবে।’’
এদিকে সপ্তাহভর লকডাউনের শেষে আরও কয়েকদিন লকডাউন থাকুক এটাই চাইছেন বর্ধমান শহরের সচেতন মানুষের বেশিরভাগ অংশ। লাগাতার কোভিড সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার চিন্তায় ফেলেছিল জেলা প্রশাসনকে। প্রথমে বর্ধমান শহরের তিনটি ওয়ার্ডে লকডাউন ঘোষণা হয়। সম্প্রসারণ করা হয় কন্টেইনমেন্ট জোন। তাতেও লাগাম পড়েনি সংক্রমণের হারে। বাধ্য হয়ে ২২ থেকে বর্ধমান শহরের ৩৫টি ওয়ার্ডেই লকডাউন ঘোষিত হয়। পরে বেশকয়েকটি পঞ্চায়েতকেও তার আওতায় আনা হয়। লকডাউনের ফলে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পেতে অসুবিধা হচ্ছে। তবুও নাগরিকদের বেশিরভাগ চাইছেন আগে প্রাণটা বাঁচুক। সাময়িক সমস্যা মেনে নিতে চান তাঁরা। তাঁদের পরামর্শ কোনও দ্বিধা নয়। আরও বাড়ানো হোক লকডাউন।