অসমে একসঙ্গে আত্মসমর্পণ ৬৪৪ জন জঙ্গির, ১৭৭টি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে
সুমন কল্যাণ ভদ্র, অসম : সিপিআই (মাও), উলফা (স্বাধীন ), কেএলও এবং এনডিএফবি জঙ্গিদের ৬৪৪ জন আত্মসমর্পণ করল গুয়াহাটিতে। বৃহস্পতিবার সকালে গৌহাটিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। সাম্প্র
শেষ আপডেট: 23 January 2020 07:56
সুমন কল্যাণ ভদ্র, অসম : সিপিআই (মাও), উলফা (স্বাধীন ), কেএলও এবং এনডিএফবি জঙ্গিদের ৬৪৪ জন আত্মসমর্পণ করল গুয়াহাটিতে। বৃহস্পতিবার সকালে গৌহাটিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। সাম্প্রতিককালে এতজন জঙ্গির একসঙ্গে আত্মসমর্পণের ঘটনা এই প্রথম। এই মাসের গোড়াতেই মায়ানমারে আত্মসমর্পণ করেন এনডিএফবি জঙ্গি সংগঠনের ৫০জন সদস্য। কড়া নিরাপত্তায় তাঁদের অসমে নিয়ে আসা হয়। তারপর ফের এই আত্মসমর্পণের ঘটনা।
এ দিন মোট ১৭৭ টি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র তাঁরা তুলে দেন সরকারের কাছে। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এত বড়ো সংখ্যায় জঙ্গিদের মূল স্রোতে ফিরে আসার ঘটনা সারা দেশে বিরল বলেই মনে করছে অসম সরকার। উত্তরপূর্ব ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা ছাড়াও সিপিআই মাওবাদী জঙ্গিদের একটি দল আত্মসমর্পণ করায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের মধ্যে অসমের ত্রাস উলফার (স্বাধীন) বেশ কয়েকজন নেতাও রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কেএলও জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায়। সব মিলিয়ে ২০২০ র নেতাজীর জন্মদিন উত্তরপূর্ব ভারতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।

জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানে এসে আপ্লুত অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি বলেন, “সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে এত বড় সংখ্যায় জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আগামীতে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা সমাজের মূলস্রোতে এসে যাতে সুন্দরভাবে জীবনধারণ করতে পারেন তার জন্য সরকার সব রকমের সহায়তা করবে।”
১১ জানুয়ারি ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ মায়ানমারের জঙ্গলে একটি গোপন জায়গায় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ ভারতীয় সেনার সামনে আত্মসমর্পণ করেন এনডিএফবি (সংবিজিত) গোষ্ঠীর ৫০ জন সদস্য। এঁদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের প্রধান বি সারাইগাও। কড়া পাহারায় তাঁদের মায়ানমার থেকে অসমে নিয়ে আসে সেনা। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার, অসম সরকার ও এনডিএফবি (সংবিজিত) গোষ্ঠী মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরপর এমন আত্মসমর্পণে দ্রুত শান্তি ফিরবে নিম্ন অসমে। এমনটাই আশা অসম সরকারের।