শেষ আপডেট: 13 January 2020 08:53
পুরনো অভ্যাস ফেরাতে এবার উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পাল্লারোড পল্লিমঙ্গল সমিতি। ইংরেজি নববর্ষে দোকান থেকে গ্রিটিংস কার্ড না কিনে দিয়ে চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানাতে উৎসাহ দিচ্ছে তারা। সংস্থার সব সদস্যই শুভানুধ্যায়ীদের হাতে লেখা চিঠি পাঠাচ্ছে। তারা বিশেষ পুরস্কারের আয়োজন করেছে সেরা চিঠি লিখিয়ের জন্য।
পল্লিমঙ্গল সমিতির ৩৩০ জন সদস্য রয়েছেন। নতুন বছরে তাঁদের সকলকে পোস্ট কার্ড বা ইনল্যান্ড লেটার কার্ডে শুভেচ্ছা পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের কর্তা ও বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ীকেও পাঠানো হচ্ছে হাতে লেখা চিঠি।
বড়দিনের আগে থেকেই এই চিঠি লেখার শুরু হয়ে গিয়েছিল। ইতিমধ্যেই সমস্ত চিঠি পোস্ট করা হয়ে গেছে – সব মিলিয়ে অন্তত সাড়ে চারশো মতো চিঠি তো বটেই! শুধু চিঠি অবশ্য পাঠানো হচ্ছে না, চিঠির মধ্যে আটকানো থাকছে একটি গাছের বীজ। ওই বীজটি রোপন করার জন্য চিঠিতে অনুরোধও থাকছে, ওই বীজ রোপণ করুন। আর অনুরোধ করা হচ্ছে চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য। যে চিঠির বয়ান সব থেকে ভালো হবে, তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ পুরষ্কার। মানে পুরস্কার থাকছে শুধুমাত্র চিঠির উত্তরের উপরে।
এই ভাবনা যাঁর সেই সন্দীপন সরকার বলেন, “এই ভাবনায় একই সঙ্গে কাজ করছে বেশ কয়েকটি দিক। প্রথম কথা চিঠি লেখার অভ্যাস ফেরানো, নতুন প্রজন্মের কাছে পোস্ট কার্ড, ইনল্যান্ড লেটার কার্ড তুলে ধরা আর তার সঙ্গে সবুজায়ন।” সন্দীপনের কথায়, মাত্র ৫০ পয়সার একটি পোস্ট কার্ডেই এতগুলি কাজ হচ্ছে। সেটা ফোন বা মেসেজে হয়ত সম্ভব হত না। সব না হোক, বেশ কয়েকটি চিঠির উত্তর আসবে বলে আশা করছেন সংস্থার উদ্যোক্তারা।
এই উদ্যোগের ভূষয়ী প্রশংসা করেছেন ডাক বিভাগের বর্ধমান আরএমএস শাখার অফিসার ইনচার্জ শ্যামাপ্রসাদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে চিঠি লেখা অনেকটাই কমেছে। এই প্রয়াসে হয়তো অতীতের পত্রসাহিত্য আবার বেঁচে উঠবে। চিঠির সঙ্গে গাছের বীজ দেওয়ার প্রসঙ্গে ‘গাছ মাস্টার’ বলে পরিচিত অরূপ চৌধুরী বলেন, “সচেতনতা মানুষকে অনেকটা এগিয়ে দিতে পারে। সেই নিরিখে এটা একটা প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। আবার হয়তো শুনতে পাবো – “আজ বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম।”
ব্যস্ততার যুগে এই উদ্যোগ নজর কাড়লেও তাতে পত্রসাহিত্যের কতটা উপকার হবে বলা মুশকিল।