দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় বেশ কিছু জায়গায় লকডাউন ঠিক মতো মানা হচ্ছে না বলে উপুর্যুপরি কয়েকটি অ্যাডভাইজারি পাঠিয়েছে কেন্দ্র। সোমবার সকালেই সর্বশেষ চিঠিটি এসেছে নবান্নে। কাকতালীয় হল, তারপরই এদিন বিকেলে ফুল-মিষ্টির দোকান খোলা রাখার সময় এক ধাক্কায় চার ঘণ্টা কমিয়ে দিল রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়েছেন, সকাল আটটা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ফুল এবং মিষ্টির দোকান।
এপ্রিল মাসের গোড়াতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দুধ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করতে না পেরে সব দুধ পুকুরে ফেলে দিচ্ছিলেন। তারপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে আংশিক সময়ের জন্য মিষ্টির দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেন। প্রথমে তিনি বলেছিলেন বেলা ১২টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান। তারপর গত বৃহস্পতিবার সেটাকে বাড়িয়ে করে দেন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত। কিন্তু এদিন সেই সময়সীমা ফের কমিয়ে দিল রাজ্য।
ফুল-মিষ্টির দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও কম হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় স্ট্র্যান্ড রোডের জগন্নাথ ঘাট ফুল মার্কেটের গিজগিজে ভিড়ের ভিডিও টুইট করে লকডাউন ভাঙার অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফুল-মিষ্টির দোকান খোলার সিদ্ধান্ত রাজ্যের বড় বিপদ ডেকে আনবে।
বাবুলের সেই টুইট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সেও মমতা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা সবরকম সাহায্য কেন্দ্রীয় সরকারকে করব। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও যেন বাংলা নিয়ে উল্টোপাল্টা না বলেন। কেউ একটা ছবি ছেড়ে দিল, কেউ একটা ভিডিও ছেড়ে দিল, এসব যেন না হয়!"
এর আগে কেন্দ্র কলকাতার একাধিক জায়গার নাম উল্লেখ করে অ্যাডভাইজারি পাঠিয়ে বলেছিল, ওইসব জায়গায় লকডাউন ভাঙা হচ্ছে। যাকে মুখ্যমন্ত্রী 'সাম্প্রদায়িক চিঠি' বলে তোপ দেগেছিলেন।
এদিন বাজার নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, "আমরা চিন্তাভাবনা করছি, বাজারগুলিতে ব্যারিকেড দেওয়া যায় কিনা। যাতে কিছু সংখ্যক লোক ঢুকল, তারা বেরিয়ে যাওয়ার পর আবার কয়েকজন ঢুকলেন-- এটা করা যায় কিনা তার পরিকল্পনা চলছে। তবে এখানে জায়গা ছোট, লোক বেশি। এটা আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।"