দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে ২০০ কোটি টাকার তহবিলও গঠন করেছে। সেই সঙ্গে গত কয়েক দিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধারাবাহিক ভাবেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন। বলেছেন, “একটা গ্লাভসও আমাদের দেয়নি কেন্দ্র। সব নিজেদেরই কিনতে হয়েছে”।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কথারই এবার বিরোধিতা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। বললেন, এই মুহূর্তে অন্তত ‘ছোট রাজনীতি’ করবেন না। সেই সঙ্গে বাবুল কাগজপত্র নিয়ে দেখাতে চেয়েছেন, করোনাভাইরাসের টেস্ট-কিট বাংলায় পাঠানো থেকে শুরু করে গরিব মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কী কী করেছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
বাবুল এ দিন বলেন, বাংলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মোকবিলায় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, “আপনি একাই কাজ করছেন আর কেন্দ্রীয় সরকার কিছু করছে না, এই ধারণাটা এই মুহূর্তে মানুষের মধ্যে ছড়াবেন না। তাতে মানুষ অসহায় বোধ করবে। বরং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই বার্তাটাই যাওয়া উচিত”।
এর পরেই ধরে ধরে হিসাব দেন বাবুল। তিনি বলেন, এটা হিসাব দেওয়ার সময় নয়। কিন্তু এই সংকটের পরিস্থিতিতেও মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্যই এটা করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, কেন্দ্র থেকে একটা গ্লাভসও দেয়নি। অথচ কেন্দ্র মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজকে ২০০ টেস্ট কিট দিয়েছে। আইপিজিএমইআর কলকাতায় ১২৫ কিট আছে। বেলেঘাটার নাইসেডে ২০টা কিট আছে। এখানকার জন্য আরও ১০০০ টেস্ট কিট আইসিএমআর এনআইভি পুনে থেকে বৃহস্পতিবার পাঠিয়ে দিয়েছে। নিশ্চয় এতদিনে তা বেলেঘাটা আইডি পেয়ে গিয়েছে। তা ছাড়া উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেও ২০০ কিট পৌঁছে গেছে। সুতরাং ২৫০০ এর মতো কিট কলকাতায় রয়েছে”।
শুধু এই টেস্ট কিট নয়, আরও কিছু সুবিধা কেন্দ্র পাইয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, “২৪ মার্চ লেবার মন্ত্রকের তরফে একটা অ্যাডভাইজরি দিয়ে বলা হয়েছিল, শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের কাছে ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। এই টাকা সাড়ে ৩ কোটি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের পাওয়ার কথা। সব মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে সেই টাকা যেন শমিকদের দেওয়া হয়। আর তার পরই দেখা গেল, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, বাংলায় প্রচেষ্টা প্রকল্পের আওতায় অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অথচ সেটা কিন্তু কেন্দ্রেরই প্রকল্প।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু অসত্য কথা ছোট্ট করে লুকিয়ে বলে দিচ্ছেন, যেটা অন্যায়। এই ধরনের ছোট রাজনীতি করা এখন উচিত না। তা মুখ্যমন্ত্রী সুলভ নয়।”
শুধু বাবুল নয়, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকরও এদিন বলেন, জনতা কার্ফু বা লক ডাউনের অনেক আগে থেকেই গণবন্টন ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুতের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। রেশনে যে ২ টাকা কেজি চাল দেওয়া হয়, তার প্রকৃত দাম ৩৭ টাকা। সেই দামেই সরকার চাষিদের থেকে কেনে। তার পর কেজি প্রতি চৌত্রিশ টাকা ভর্তুকি দেয় কেন্দ্র। আর রাজ্য দেয় কেজি প্রতি মাত্র ১ টাকা ভর্তুকি। আগামী তিন মাস, দারিদ্র সীমার নিচে থাকা প্রতিটি মানুষ মাসে আরও পাঁচ কেজি করে ভর্তুকি মূল্যে ওই চাল-গম পাবে।